মুক্ত হচ্ছে প্রশাসনিক জট, বাংলাসহ পাঁচ রাজ্যে প্রত্যাহার হলো নির্বাচনী আচরণবিধি

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গসহ দেশের চার রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থেকে আদর্শ নির্বাচনী আচরণবিধি প্রত্যাহার করে নিল ভারতের নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কমিশন জানিয়েছে, ৭ মে শুক্রবার থেকেই সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলোতে আর কোনো নির্বাচনী বিধিনিষেধ কার্যকর থাকছে না। এর ফলে দীর্ঘ প্রায় দুই মাস পর প্রশাসনিক স্তরে নীতি নির্ধারণী সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নের পথ প্রশস্ত হলো।
স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে জনজীবন ও প্রশাসন
গত ১৬ মার্চ নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই দেশজুড়ে আদর্শ আচরণবিধি চালু হয়েছিল। এর ফলে উন্নয়নমূলক কাজের উদ্বোধন, নতুন সরকারি প্রকল্প ঘোষণা কিংবা বড় কোনো প্রশাসনিক রদবদলের ওপর আইনি সীমাবদ্ধতা ছিল। ৪ মে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর পশ্চিমবঙ্গসহ অন্যান্য রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় এই বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। আগামী ৯ মে পশ্চিমবঙ্গে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণের কথা রয়েছে। প্রশাসনিক স্থবিরতা কাটিয়ে জনস্বার্থে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার লক্ষ্যেই কমিশনের এই পদক্ষেপ।
ব্যতিক্রম শুধু দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা
পুরো রাজ্যে আচরণবিধি প্রত্যাহার করা হলেও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে এখনই কোনো ছাড় মিলছে না। গত ২৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণের সময় ব্যাপক বিশৃঙ্খলা ও গোলমালের অভিযোগ ওঠায় কমিশন এই কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী ২১ মে ফলতায় পুনরায় ভোটগ্রহণ এবং ২৪ মে ফলাফল ঘোষণা করা হবে। নির্বাচনী প্রক্রিয়া পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেবলমাত্র এই নির্দিষ্ট এলাকাটিতেই আদর্শ আচরণবিধি বলবৎ থাকবে।
নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্য সচিবালয়গুলোতে থমকে থাকা ফাইলগুলোতে গতি ফিরবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। বিশেষ করে জনস্বাস্থ্য ও জরুরি পরিষেবা সংক্রান্ত বিষয়ে সরকারের পূর্ণ ক্ষমতা ফিরে পাওয়া সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তিদায়ক হবে।
