নবান্ন অতীত, এবার গন্তব্য মহাকরণ: আড়াইশো বছরের ঐতিহ্যে ফিরছে বাংলার নতুন সরকার

নবান্ন অতীত, এবার গন্তব্য মহাকরণ: আড়াইশো বছরের ঐতিহ্যে ফিরছে বাংলার নতুন সরকার

দীর্ঘ ১৩ বছর পর পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু আবারও গঙ্গা পেরিয়ে কলকাতায় ফিরতে চলেছে। বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর নবনির্বাচিত বিজেপি সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, হাওড়ার ‘নবান্ন’ নয়, বরং ঐতিহ্যের ‘রাইটার্স বিল্ডিং’ থেকেই পরিচালিত হবে আগামীর রাজ্য প্রশাসন। শনিবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে নতুন মুখ্যমন্ত্রীর শপথ গ্রহণের পরপরই এই স্থানান্তর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

ঐতিহ্য ও প্রতীকের লড়াই

বিজেপি নেতৃত্বের মতে, রাইটার্স বিল্ডিংস কেবল একটি ভবন নয়, বরং এটি বাংলার আড়াইশ বছরের রাজনৈতিক ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ২০১৩ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জরাজীর্ণ পরিকাঠামো এবং অগ্নিকাণ্ডের আশঙ্কার কথা জানিয়ে সাময়িকভাবে সচিবালয় নবান্নে সরিয়ে নিয়েছিলেন। তবে দীর্ঘ এক দশকেও সংস্কার কাজ শেষ না হওয়ায় এবং রাইটার্স কার্যত পরিত্যক্ত হয়ে থাকায় ক্ষোভ ছিল রাজনৈতিক মহলে। নতুন সরকার এই পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রশাসনের কেন্দ্রস্থলে তার ঐতিহাসিক গরিমা ফিরিয়ে আনতে চাইছে।

প্রস্তুত হচ্ছে পুরনো সচিবালয়

পূর্ত দপ্তর সূত্রে খবর, রাইটার্স বিল্ডিংসের ১ ও ২ নম্বর ব্লক বর্তমানে ব্যবহারের উপযোগী করে তোলা হয়েছে। মূল দাপ্তরিক কাজ আপাতত দ্বিতীয় তলা থেকে শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরের (সিএমও) পরিকাঠামো প্রায় তৈরি। যদিও ভবনের অনেক অংশে সংস্কার কাজ এখনো বাকি, তবুও প্রতীকি এবং কৌশলগত কারণে দ্রুত এই স্থানান্তর সম্পন্ন করতে চাইছে নয়া সরকার। ইতোমধ্যে লালবাজারের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা ভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখেছেন।

পরিবর্তনের প্রভাব

সচিবালয় কলকাতায় ফিরে এলে প্রশাসনিক গতিবিধি এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াতে বড়সড় পরিবর্তন আসবে। রাইটার্সের সংস্কার কাজের জন্য আগে ভবনটির কিছু অংশ ভেঙে ফেলায় বর্তমানে সেখানে প্রায় ২.৫ লক্ষ বর্গফুট জায়গা রয়েছে, যা মুখ্যমন্ত্রী ও গুরুত্বপূর্ণ ৮-১০টি দপ্তরের জন্য পর্যাপ্ত। নবান্ন থেকে রাইটার্সে এই প্রত্যাবর্তনের ফলে গঙ্গার দুই তীরের ট্রাফিক ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা বলয় পুনর্গঠন করতে হবে পুলিশকে।

এক ঝলকে

  • দীর্ঘ ১৩ বছর পর রাজ্যের সচিবালয় হাওড়ার নবান্ন থেকে পুনরায় কলকাতার রাইটার্স বিল্ডিংসে ফিরছে।
  • আগামী শনিবার শপথ গ্রহণের পরই নতুন মুখ্যমন্ত্রী ঐতিহাসিক এই লাল বাড়িতে নিজের দপ্তরের কার্যভার গ্রহণ করবেন।
  • আপাতত সংস্কার শেষ হওয়া ১ ও ২ নম্বর ব্লকের দ্বিতীয় তলা থেকে প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
  • ১৭৭৭ সালে নির্মিত এই স্থাপত্যটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব পুনরুদ্ধার করতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে নয়া সরকার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *