‘মুখ ফস্কে নয়, উনি অভ্যস্ত’, মহিলা সেনা অফিসারকে অপমানের মামলায় মন্ত্রী বিজয় শাহকে তুলোধনা শীর্ষ আদালতের

শীর্ষ আদালত থেকে তীব্র ভর্ৎসনা জুটল মধ্যপ্রদেশ সরকারের কপালে। ভারতীয় সেনার উচ্চপদস্থ আধিকারিক কর্নেল সোফিয়া কুরেশিকে নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য করার অভিযোগে রাজ্যের মন্ত্রী বিজয় শাহের বিরুদ্ধে মামলা চালানোর অনুমতি দিতে বিলম্ব হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ সরাসরি প্রশ্ন তুলেছে, কেন গত দুই সপ্তাহ ধরে এই বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি রাজ্য প্রশাসন।
আদালতের অবস্থান ও মন্ত্রীর মন্তব্য
ঘটনার সূত্রপাত গত বছর যখন কর্নেল কুরেশি ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সাফল্য নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলছিলেন, তখন তাঁর উদ্দেশ্যে বিতর্কিত মন্তব্য করেন মন্ত্রী বিজয় শাহ। আদালত নিযুক্ত বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) তাদের রিপোর্টে জানিয়েছে, মন্ত্রীর এই ধরনের মন্তব্য করার প্রবণতা রয়েছে। সরকার পক্ষ থেকে বিষয়টিকে ‘ভুলবশত মুখ ফস্কে যাওয়া’ হিসেবে ব্যাখ্যার চেষ্টা করা হলেও আদালত তা নাকচ করে দেয়। শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, একজন রাজনীতিক জনসমক্ষে কীভাবে কথা বলতে হয় তা ভালোভাবেই জানেন এবং যদি এটি অনিচ্ছাকৃত হতো, তবে ঘটনার পরপরই তিনি ক্ষমা চাইতেন।
আইনি প্রক্রিয়া ও প্রশাসনিক বাধ্যবাধকতা
মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট আগেই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দিয়েছিল। এরপর সুপ্রিম কোর্ট বিষয়টির তদন্তে তিন সদস্যের একটি এসআইটি গঠন করে। বর্তমানে তদন্তকারী দল মন্ত্রীর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের কাছে অনুমতি চেয়েছে। চার সপ্তাহ পর এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, নিছক চিঠিতে দুঃখ প্রকাশ করা প্রকৃত ক্ষমা প্রার্থনা নয়, বরং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করাই কাম্য।
এক ঝলকে
- কর্নেল সোফিয়া কুরেশিকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের দায়ে বিদ্ধ মধ্যপ্রদেশের মন্ত্রী বিজয় শাহ।
- মন্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমতি দিতে দেরি করায় রাজ্য সরকারকে সুপ্রিম কোর্টের কড়া ভর্ৎসনা।
- আদালত মন্ত্রীর দেওয়া ক্ষমা প্রার্থনার সততা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
- আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে রাজ্য সরকারকে এই পরিস্থিতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
