পাঁচ দশক পর মসনদে মেদিনীপুরের ভূমিপুত্র, নয়া ইতিহাস লিখে বাংলার কুর্সিতে শুভেন্দু অধিকারী

পাঁচ দশক পর মসনদে মেদিনীপুরের ভূমিপুত্র, নয়া ইতিহাস লিখে বাংলার কুর্সিতে শুভেন্দু অধিকারী

দীর্ঘ পাঁচ দশকের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বাংলার মসনদে বসতে চলেছেন মেদিনীপুরের ভূমিপুত্র শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন তিনি। এই ঘোষণার পরেই উৎসবের মেজাজ ছড়িয়ে পড়েছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা জুড়ে। শান্তিকুঞ্জ থেকে নন্দীগ্রাম— সর্বত্রই গেরুয়া আবির মেখে জয়োল্লাসে মেতেছেন কর্মী-সমর্থকরা। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের পীঠস্থান এবং তাম্রলিপ্ত সরকারের সেই বিপ্লবী মাটি থেকে উঠে আসা কোনো জননেতা দীর্ঘ ৫০ বছর পর ফের রাইটার্স বিল্ডিংয়ের অলিন্দে দাপট দেখাতে চলছেন।

কলকাতার একাধিপত্যের অবসান

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুভেন্দুর এই উত্থান আসলে জেলা বনাম কলকাতার দীর্ঘদিনের বঞ্চনার রাজনীতির অবসান। বাম ও তৃণমূল আমলের দীর্ঘ সময় জুড়ে অভিযোগ ছিল যে, প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদ এবং ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু মূলত কলকাতা ও তার সংলগ্ন এলাকাতেই সীমাবদ্ধ থাকত। জেলা থেকে জিতে আসা বিধায়কদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব না দিয়ে পিছনের সারিতে রাখার যে প্রথা চলে আসছিল, শুভেন্দু অধিকারীর মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার মাধ্যমে তার আমূল পরিবর্তন ঘটল। জেলার মাটি থেকে রাজ্য পরিচালনার যে স্বপ্ন তিনি দেখেছিলেন, তা আজ বাস্তবায়িত হতে চলেছে।

আন্দোলনের ভূমি থেকে মসনদে

শুভেন্দু অধিকারীর এই যাত্রাপথ অত্যন্ত কণ্টকাকীর্ণ ছিল। ২০০৭ সালে নন্দীগ্রাম আন্দোলনের অন্যতম কাণ্ডারী হিসেবে বাম দুর্গের পতন নিশ্চিত করেছিলেন তিনি। পরবর্তীতে তৃণমূল সরকারের অন্দরে থেকে জেলার বঞ্চনা নিয়ে সরব হয়ে শেষ পর্যন্ত বিজেপির পতাকা হাতে তুলে নেন। একসময়ের রাজনৈতিক সতীর্থ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নন্দীগ্রামের মাটিতে পরাজিত করে যে লড়াই তিনি শুরু করেছিলেন, ২০৭টি আসন নিয়ে সরকার গড়ার মাধ্যমে তার পূর্ণতা পেল। মেদিনীপুরের ইতিহাসে ১৯৭৭ সালে অজয় মুখোপাধ্যায়ের পর শুভেন্দুই দ্বিতীয় ব্যক্তি, যিনি এই উপকূলীয় জেলা থেকে বাংলার সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদে আসীন হতে চলেছেন।

এক ঝলকে

  • শুভেন্দু অধিকারী পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শনিবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে শপথ নিচ্ছেন।
  • ১৯৭৭ সালে অজয় মুখোপাধ্যায়ের পর মেদিনীপুর থেকে দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে তিনি মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন।
  • মোট ২০৭টি আসনে জয়লাভ করে রাজ্যে প্রথমবার বিজেপি সরকার গঠন করেছে।
  • এই পরিবর্তনের ফলে কলকাতার বাইরে জেলা থেকে রাজ্য প্রশাসনের রাশ নিয়ন্ত্রিত হওয়ার নতুন পথ তৈরি হলো।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *