‘চরৈবেতি’ মন্ত্রে শুভেন্দু-উত্থান: বাংলায় এবার মোদীর স্বপ্নপূরণ ও ‘ডবল ইঞ্জিন’ রাজ

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে বিজেপির পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচিত হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। নিউ টাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে ২০৭ জন জয়ী প্রার্থীর সম্মতিতে তাঁর নাম ঘোষণা করা হয়। দায়িত্ব গ্রহণের পরেই শুভেন্দু স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তাঁর সরকারের মূল চালিকাশক্তি হবে স্বামী বিবেকানন্দের অমর বাণী ‘চরৈবেতি’ বা এগিয়ে চলা। তিনি জানান, একক কৃতিত্ব নয় বরং ‘আমরা’ তত্ত্বে বিশ্বাস রেখে সকলকে সঙ্গে নিয়েই বাংলার নবনির্মাণে ব্রতী হবেন তিনি।
ডবল ইঞ্জিন সরকার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান
হবু মুখ্যমন্ত্রী তাঁর ভাষণে জোর দিয়েছেন কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বয় বা ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের কার্যকারিতার ওপর। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যে যে গ্যারান্টি বাংলার মানুষকে দিয়েছেন, তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে। বিশেষ করে সন্দেশখালি থেকে আরজি কর পর্যন্ত নারী নির্যাতনের বিচার এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির তদন্তে কমিশন গঠনের বিষয়ে শাহের দেওয়া সঙ্কল্প পূরণে তাঁর সরকার বদ্ধপরিকর। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ নয়ছয়ের তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি।
লক্ষ্য ৬০ শতাংশ ভোট ও সোনার বাংলা
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা বলতে গিয়ে শুভেন্দু জানান, চলতি নির্বাচনে রাজ্যের ৪৬ শতাংশ মানুষ বিজেপিকে সমর্থন করেছেন, কিন্তু পরবর্তী লক্ষ্য হবে সেই সমর্থনকে ৬০ শতাংশে নিয়ে যাওয়া। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য’ পঙক্তি উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, বাংলার মানুষের মন থেকে ভয় দূর করে ভরসা ফিরিয়ে আনাই তাঁর সরকারের প্রধান কাজ। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও স্বামী প্রণবানন্দকে স্মরণ করে তিনি রাজ্যের সাংস্কৃতিক চেতনা ও আত্মবলিদান দেওয়া বিজেপি কর্মীদের স্বপ্নপূরণের অঙ্গীকার করেন।
শনিবার সকালে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতে শপথ নিতে চলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। কেন্দ্র ও রাজ্যের এই যৌথ পথচলা বাংলার অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোতে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।
এক ঝলকে
- পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর নাম চূড়ান্ত ও পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচিত।
- স্বামী বিবেকানন্দের ‘চরৈবেতি’ মন্ত্রকে পাথেয় করে কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ে উন্নয়নের সঙ্কল্প।
- নারী নির্যাতন ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির তদন্তে বিশেষ কমিশন গঠনের প্রতিশ্রুতি।
- শনিবার ব্রিগেডে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান।
