অপারেশন সিন্ধুর উত্তাপের মাঝে কি পাকিস্তানের পাশে ছিল চীন, এক বছর পর ফাঁস হলো চাঞ্চল্যকর তথ্য – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দীর্ঘ এক বছরের রাখঢাক কাটিয়ে অবশেষে চীন স্বীকার করে নিয়েছে যে, গত বছর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চলা সংঘাত বা ‘অপারেশন সিন্ধু’ চলাকালীন তারা ইসলামাবাদকে সরাসরি কারিগরি সহায়তা দিয়েছিল। চীনের সরকারি প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি-তে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রি কর্পোরেশন অফ চায়না (AVIC)-র প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, যুদ্ধের সময় তারা পাকিস্তানের সামরিক ঘাঁটিতে উপস্থিত ছিলেন। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের বরাতে এই খবরটি প্রকাশ্যে আসার পর দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
যুদ্ধের ময়দানে চীনা উপস্থিতি
গত বছরের ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পহেলগামে জঙ্গি হামলার পর ভারত ‘অপারেশন সিন্ধু’ শুরু করে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে থাকা জঙ্গি ঘাঁটিগুলো গুঁড়িয়ে দিয়েছিল। সেই সময়ে চेंगদু এয়ারক্র্যাফট ডিজাইন অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রকৌশলী ঝাং হেং পাকিস্তানে মোতায়েন ছিলেন। তিনি জানিয়েছেন, ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা এবং অনবরত এয়ার-রেড সাইরেনের শব্দের মাঝেও তারা নিশ্চিত করছিলেন যেন চীনা যুদ্ধবিমানগুলো পূর্ণ ক্ষমতায় কাজ করতে পারে। মূলত পাকিস্তানের হাতে থাকা আধুনিক J-10CE ফাইটার জেটের কার্যকারিতা বজায় রাখতেই বেইজিং তাদের বিশেষজ্ঞদের পাঠিয়েছিল।
পাকিস্তান কি চীনের সমরাস্ত্রের পরীক্ষাগার
আন্তর্জাতিক অস্ত্র গবেষণা সংস্থা ‘সিপ্রি’-র তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের সামরিক সরঞ্জামের ৮১ শতাংশই এখন চীনা বংশোদ্ভূত। ভারতের সামরিক মহলের মতে, চীন এখন পাকিস্তানকে একটি ‘লাইভ ল্যাব’ বা জীবন্ত পরীক্ষাগার হিসেবে ব্যবহার করছে, যেখানে তারা যুদ্ধের বাস্তব পরিস্থিতিতে নিজেদের উন্নত প্রযুক্তির পরীক্ষা করে নিচ্ছে। বিশেষ করে J-10CE-র মতো অত্যাধুনিক প্রজন্মের যুদ্ধবিমানের পারফরম্যান্স যাচাই করা চীনের জন্য একটি বড় কৌশলগত লক্ষ্য ছিল।
এই স্বীকৃতির মাধ্যমে এটি স্পষ্ট যে বেইজিং ও ইসলামাবাদের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক এখন কেবল অস্ত্র কেনাবেচায় সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে কারিগরি সহযোগিতা এবং কৌশলগত অংশীদারিত্বে পৌঁছেছে। ভারতের পক্ষ থেকে চীনকে সবসময়ই প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখা হয় এবং এই নতুন তথ্য সেই আশঙ্কার পালে আরও হাওয়া দিচ্ছে। পাকিস্তান বর্তমানে চীন থেকে আরও ৪০টি J-35 স্টিলথ ফাইটার জেট কেনার প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা ভবিষ্যতে এই অঞ্চলের নিরাপত্তা সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
এক ঝলকে
- ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের (অপারেশন সিন্ধু) সময় পাকিস্তানকে সরাসরি কারিগরি সাহায্য দেওয়ার কথা প্রথমবার স্বীকার করল চীন।
- চীনা প্রকৌশলীরা যুদ্ধের সময় পাকিস্তানের এয়ারবেসে উপস্থিত থেকে J-10CE যুদ্ধবিমানের রক্ষণাবেক্ষণ তদারকি করেছিলেন।
- বর্তমানে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের প্রায় ৮১ শতাংশই চীন থেকে সরবরাহকৃত।
- বেইজিং তাদের অত্যাধুনিক সমরাস্ত্রের কার্যকারিতা যাচাই করতে পাকিস্তানকে একটি পরীক্ষাগার হিসেবে ব্যবহার করছে বলে মনে করছে ভারতীয় সামরিক বিশেষজ্ঞরা।
