ক্যানসারের মরণখেলা! অসুস্থতার নাটক সাজিয়ে ফলোয়ারদের ৭০ লাখ টাকা লুটলেন এই সুন্দরী – এবেলা

ক্যানসারের মরণখেলা! অসুস্থতার নাটক সাজিয়ে ফলোয়ারদের ৭০ লাখ টাকা লুটলেন এই সুন্দরী – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

জনপ্রিয়তা আর অর্থের লোভে মানুষ কত দূর যেতে পারে, তার এক নজিরবিহীন উদাহরণ তৈরি করলেন মিশরের বিখ্যাত সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার দোনিয়া ফৌদ। নিজেকে ক্যানসার আক্রান্ত দাবি করে এবং অসুস্থতার অভিনয় করে ফলোয়ারদের থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন প্রায় ৪১ লাখ মিশরীয় পাউন্ড, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৭১ লাখ টাকার সমান। তবে শেষ রক্ষা হয়নি; বিলাসিতার প্রমাণ ও তদন্তে বেরিয়ে এসেছে তার প্রতারণার ভয়াবহ চিত্র।

সহানুভূতির আড়ালে প্রতারণার জাল
দীর্ঘদিন ধরেই দোনিয়া সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেকে মুমূর্ষু রোগী হিসেবে উপস্থাপন করে আসছিলেন। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে থাকা করুণ ছবি, বিষণ্ণ মুখ আর আবেগঘন বার্তার মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষের সহানুভূতি আদায় করেন। তার সুস্থতা কামনায় হাজার হাজার ফলোয়ার কেবল প্রার্থনাই করেননি, বরং বড় অঙ্কের আর্থিক সাহায্যও পাঠিয়েছেন। দোনিয়া নিয়মিত তার কাল্পনিক অসুস্থতার ‘আপডেট’ দিয়ে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস অর্জন করেছিলেন।

বিলাসবহুল জীবন ও সত্য উন্মোচন
প্রতারণার এই সাজানো বাগান তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে যখন দোনিয়ার বিলাসবহুল জীবনযাপনের ছবি প্রকাশ্যে আসে। ক্যানসারের মতো মরণব্যাধির সঙ্গে লড়াই করার দাবি করলেও, ভিডিওতে তাকে দামী পোশাক, বিলাসবহুল গাড়ি ও আভিজাত্যপূর্ণ স্থানে সময় কাটাতে দেখা যায়। এতেই সন্দেহ জাগে নেটিজেনদের মনে। সাংবাদিক নাদা আল-জাবালি এই রহস্যের অনুসন্ধানে নামলে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ওয়ার্ল্ড মেডিকেল সেন্টারের নথিপত্র ঘেঁটে দেখা যায়, সেখানে দোনিয়ার ক্যানসার চিকিৎসার কোনো রেকর্ড নেই। আদতে তিনি সামান্য কিছু স্ত্রী রোগজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন, যা মোটেও প্রাণঘাতী ছিল না।

আইনি ব্যবস্থা ও অপরাধ স্বীকার
প্রতারণার বিষয়টি জানাজানি হতেই জনরোষের মুখে পড়েন দোনিয়া। যারা কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে সাহায্য করেছিলেন, তারা দোনিয়ার কঠোর শাস্তির দাবি জানান। পরিস্থিতির চাপে পড়ে সম্প্রতি তিনি পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। ফেসবুকের এক দীর্ঘ পোস্টে নিজের ভুল স্বীকার করে দোনিয়া জানিয়েছেন, মানুষের মনোযোগ ও মানসিক সমর্থন পাওয়ার নেশায় তিনি এই মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি মনস্তাত্ত্বিক চিকিৎসার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন বলে দাবি করেছেন। এই ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্ধভাবে কাউকে বিশ্বাস করার ক্ষেত্রে এক বড় সতর্কবার্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *