প্রেমের টানে ঘর ছাড়লেন তরুণী, কিন্তু শ্বশুরবাড়ির দরজায় পা রাখতেই এ কী ঘটল! স্তম্ভিত গোটা গ্রাম – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
উত্তরপ্রদেশের গাজীপুর জেলার বিরনো থানা এলাকার বেঠৌরা জয়রামপুর গ্রামে প্রেমঘটিত বিয়েকে কেন্দ্র করে এক নজিরবিহীন ও সহিংস ঘটনার সাক্ষী থাকল এলাকাবাসী। নিজের পছন্দে বিয়ে করে স্বামীর ঘরে পা রাখতেই শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের হাতে চরম লাঞ্ছনার শিকার হতে হয়েছে প্রিয়া বিশ্বকর্মা নামের এক যুবতীকে। এই ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ায় তোলপাড় শুরু হয়েছে সমাজমাধ্যমেও।
ঘটনার সূত্রপাত ও পারিবারিক বিরোধ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রিয়া বিশ্বকর্মা এবং অভিষেক কন্নৌজিয়া দীর্ঘদিন ধরেই প্রেমের সম্পর্কে আবদ্ধ ছিলেন। তবে প্রিয়ার পরিবার এই সম্পর্ক মেনে না নিয়ে অন্যত্র তার বিয়ে ঠিক করে। পরিবারের অমতে গিয়ে বিয়ের ঠিক কয়েকদিন আগে প্রিয়া বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়ে অভিষেককে বিয়ে করেন। অভিযোগ উঠেছে, বাড়ি ছাড়ার সময় তিনি নগদ অর্থ ও গয়না সঙ্গে নিয়েছিলেন। এই সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত সংঘাতের মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
হিংসাত্মক রূপ ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া
বিয়ের পর দম্পতি গ্রামে ফিরলে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি ঘটে। অভিযোগ, অভিষেক ও প্রিয়া বাড়িতে প্রবেশের চেষ্টা করলে শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা বাধা দেন। এক পর্যায়ে জনসমক্ষেই প্রিয়াকে ধাক্কাধাক্কি ও লাথি-ঘুষি মেরে গ্রাম থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। গ্রামবাসীর একাংশ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে অমানবিক আখ্যা দিলেও, পরিবারের অনড় অবস্থানের কারণে গ্রামে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
আইনি জটিলতা ও সম্ভাব্য প্রভাব
ভারতের প্রচলিত আইন অনুযায়ী দুজন প্রাপ্তবয়স্ক নিজেদের সম্মতিতে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পূর্ণ অধিকার রাখেন। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিবারের আসাম্মতি থাকলেও কোনোভাবেই নববধূর গায়ে হাত তোলা বা সহিংস আচরণ আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এই ঘটনার জেরে এলাকায় পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
👉🏾 जैसे ही यह लड़की अपने प्रेमी के साथ शादी करके ससुराल पहुंची, ससुरालियों ने बुरी तरह पीटना शुरू कर दिया।
👉🏾 प्रिया विश्वकर्मा अपने घर से अभिषेक कन्नौजिया के साथ भागकर शादी कर ली। उसके बाद जैसे ही अपने प्रेमी पति के साथ ससुराल पहुंची उसके साथ ऐसा व्यवहार किया गया, और घर से भगा… pic.twitter.com/lkn3fqUMF8
— Abhimanyu Singh (@Abhimanyu1305) May 6, 2026
এই ঘটনা গ্রামীণ সমাজে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা বনাম পারিবারিক সম্মানের চিরাচরিত লড়াইকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। একদিকে যেমন গয়না ও টাকা চুরির অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের প্রশ্ন উঠেছে, অন্যদিকে একজন নারীর ওপর শারীরিক নিগ্রহের ঘটনায় দোষীদের শাস্তির দাবি জানাচ্ছে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন। বর্তমানে বেঠৌরা জয়রামপুর গ্রামে চাপা উত্তেজনা থাকলেও পুলিশ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন।
