সংবিধান মেনে BNS কার্যকর থেকে জনগণনা শুরু, নবান্নে প্রথম দিনেই একগুচ্ছ ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

সংবিধান মেনে BNS কার্যকর থেকে জনগণনা শুরু, নবান্নে প্রথম দিনেই একগুচ্ছ ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

সোমবার নবান্নে দায়িত্ব নেওয়ার পর বাংলার প্রশাসনিক কাঠামোয় আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর তিনি এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছেন, যা রাজ্যের আইনি ব্যবস্থা থেকে শুরু করে প্রশাসনিক স্তরে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল।

আইনি ব্যবস্থায় বদল: কার্যকর হলো BNS

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এক বড় ঘোষণা করে জানান, “আজ থেকে পশ্চিমবঙ্গে সংবিধান মেনে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) কার্যকর করা হলো।” উল্লেখ্য, সারা দেশে এই নতুন আইন চালু হলেও আগের সরকার পুরনো ‘CRPC’ বা ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী কাজ চালাচ্ছিল। এবার থেকে রাজ্যের সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া নতুন কেন্দ্রীয় আইন মেনেই পরিচালিত হবে।

অবাধ নির্বাচনের জন্য সকলকে কৃতজ্ঞতা

রাজ্যে দীর্ঘদিন পর ভয়মুক্ত ও অবাধ নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন কমিশন (EC), ভোটকর্মী, গণনাকর্মী, রাজ্য ও কলকাতা পুলিশ এবং সমস্ত রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও কর্মীদের আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। তাঁর মতে, মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই গণতন্ত্রের এই জয় নিশ্চিত করেছে।

৩২১ জন শহিদ পরিবারের দায়িত্ব নিল সরকার

রাজনৈতিক সংঘর্ষে প্রাণ হারানো বিজেপি কর্মীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন যে, দলের ৩২১ জন শহিদ পরিবারের যাবতীয় দায় ও দায়িত্ব এখন থেকে রাজ্য সরকার বহন করবে। তাঁদের পরিবারের নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করাকে সরকারের নৈতিক কর্তব্য হিসেবে চিহ্নিত করেছেন তিনি।

প্রশাসনিক সংস্কার: IPS-IAS অফিসারদের জন্য সুখবর

রাজ্যের প্রশাসনিক আধিকারিকদের মানোন্নয়নে বড় পদক্ষেপ নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, এখন থেকে রাজ্যের আইপিএস (IPS) এবং আইএএস (IAS) অফিসাররা নিয়মিত কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন ট্রেনিং বা প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারবেন। আগে এই ক্ষেত্রে কিছু বিধিনিষেধ বা জটিলতা থাকলেও, এখন থেকে অফিসারদের পেশাদারিত্ব বাড়াতে কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয় আরও জোরদার করা হবে।

সোমবার থেকেই চালু হচ্ছে জনগণনা

রাজ্যে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত জনগণনার (Census) কাজ নিয়েও বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে নতুন সরকার। মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, “বাংলায় জনগণনার কাজ সোমবার থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হলো।” রাজ্যের প্রকৃত জনসংখ্যা ও জনবিন্যাস নির্ধারণে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি ছিল বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই সিদ্ধান্তগুলো থেকে স্পষ্ট যে, তিনি কেবল ক্ষমতায় আসীন হওয়া নয়, বরং শাসনব্যবস্থার খোলনলচে বদলে দিয়ে এক স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক প্রশাসন গড়ে তুলতে চান। প্রথম দিনেই এই ধরণের বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নবান্নের অন্দরে ও রাজ্য রাজনীতিতে বিশেষ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মূলত কেন্দ্রীয় আইনের সঠিক প্রয়োগ এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ফেরানোই এখন শুভেন্দু সরকারের মূল লক্ষ্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *