বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপের ভ্রুকুটি, দেশজুড়ে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা

তীব্র দাবদাহে পুড়তে থাকা জনজীবনে অবশেষে স্বস্তির খবর নিয়ে আসছে প্রকৃতি। দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে একটি নিম্নচাপ ঘনীভূত হওয়ায় দেশের বড় অংশে বর্ষার আগমনের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই নিম্নচাপটি আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আরও শক্তিশালী হয়ে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়িয়ে দেবে। একইসঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু দ্রুত উত্তর দিকে অগ্রসর হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি সঞ্চয় করছে।
দেশজুড়ে প্রবল ঝড়বৃষ্টি ও বজ্রপাতের পূর্বাভাস
আবহাওয়া দফতর উত্তর ও দক্ষিণ ভারতের একাধিক রাজ্যে ভারী বৃষ্টির জন্য কমলা ও হলুদ সতর্কতা জারি করেছে। বিশেষ করে কেরল, তামিলনাড়ু ও কর্ণাটকে ১৪ থেকে ১৭ মে-র মধ্যে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে উত্তর ভারতের উত্তরপ্রদেশ, বিহার ও উত্তরাখণ্ডে বজ্রঝড় ও শিলাবৃষ্টির সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। হিমাচল প্রদেশের পাহাড়ি এলাকায় ইতিমধ্যেই প্রতিকূল আবহাওয়ার জেরে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ওড়িশাতেও আগামী ছয় দিন বজ্রবিদ্যুৎ-সহ দমকা হাওয়া ও বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে, যার ফলে রাজ্যটির ২০টি জেলায় বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
বর্ষার অগ্রগতি ও তাপপ্রবাহের দ্বিমুখী প্রভাব
মৌসুমি বায়ু এই সপ্তাহের শেষের দিকে আন্দামান সাগর ও দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে প্রবেশ করার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে উত্তর-পূর্ব ভারতের আসাম, মেঘালয় ও মণিপুরে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হতে পারে। পশ্চিমবঙ্গের উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি এলাকা ও সিকিমেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বৃষ্টি ও ঝড়ের এই স্বস্তির মাঝেও পশ্চিম ভারতের পরিস্থিতি ভিন্ন থাকবে। রাজস্থান, গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ ও মহারাষ্ট্রে আগামী ১৭ মে পর্যন্ত তীব্র তাপপ্রবাহ বজায় থাকতে পারে। মূলত বঙ্গোপসাগরের এই সক্রিয় সিস্টেমটি একদিকে বৃষ্টির সম্ভাবনা বাড়ালেও অন্যদিকে বায়ুমণ্ডলের পরিবর্তনের কারণে কিছু এলাকায় সাময়িকভাবে গরম অনুভূত হতে পারে।
