বিনিয়োগের জন্য আর বিদেশ যেতে হবে না, ভয়মুক্ত শিল্পের পরিবেশ হবে বাংলায়, বণিকসভায় হুঙ্কার শমীকের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গে শিল্পের খরা কাটাতে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে কড়া বার্তা দিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। মঙ্গলবার একটি বণিকসভার অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, রাজ্যে শিল্প গড়তে গিয়ে আর কোনও রাজনৈতিক দলকে টাকা দিতে হবে না। বিনিয়োগের পথে কেউ বাধা হয়ে দাঁড়ালে সরাসরি পুলিশকে জানানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। এদিন শমীকের বক্তব্যে যেমন ছিল রাজ্যের বর্তমান শিল্পের পরিস্থিতির সমালোচনা, তেমনই ছিল নতুন জমি নীতি প্রবর্তনের মাধ্যমে বড় শিল্প আনার অঙ্গীকার।
শিল্পে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও জমি নীতি বদলের প্রতিশ্রুতি
রাজ্যে শিল্প স্থাপনের ক্ষেত্রে প্রধান অন্তরায় হিসেবে রাজনৈতিক তোলাবাজি এবং ত্রুটিপূর্ণ জমি নীতিকে চিহ্নিত করেছেন শমীক ভট্টাচার্য। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্বতন সরকারের আমলে মেধার বিকাশ থমকে গিয়েছে এবং রাজ্যের মূলধন অন্য রাজ্যে চলে গিয়েছে। এই পরিস্থিতি বদলাতে পাঞ্জাব, মহারাষ্ট্র বা হরিয়ানার আদলে নতুন জমি নীতি নিয়ে আসার কথা বলেন তিনি। শিল্পপতিদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, “আগামী দিনে কোনও ফ্যাক্টরি করতে গেলে কোনও রাজনৈতিক কর্মী টাকা চাইতে আসবে না।” দল ও সরকারের মধ্যে বিভাজন রেখা বজায় রেখে রাজ্যে একটি সুস্থ ও নিরপেক্ষ বাণিজ্যিক পরিবেশ তৈরির সওয়াল করেন তিনি।
নাম না-করে সৌরভ ও মুখ্যমন্ত্রীর স্পেন সফরকে কটাক্ষ
এদিন নাম না-করে ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেট অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় এবং রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদেশ সফরকেও তীব্র খোঁচা দেন শমীক। ২০২৩ সালের স্পেন সফরে সৌরভের শালবনিতে ইস্পাত কারখানা গড়ার ঘোষণাকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “বিদেশে দাঁড়িয়ে পশ্চিমবঙ্গের শিল্পের ঘোষণা করার কোনও মানে হয় না।” ক্রিকেটের পরিভাষা ব্যবহার করে তিনি মন্তব্য করেন, মাঠের বাইরে থেকে বল থ্রো করে শিল্প আনা সম্ভব নয়। রাজ্যে প্রকৃত বিনিয়োগের জন্য মাটির কাছাকাছি থেকে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তিনি। একইসঙ্গে টলিউড বা চলচ্চিত্র জগতে রাজনীতির ‘দখলদারি’ বন্ধ করারও প্রতিশ্রুতি দেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি।
