মোদী-মন্ত্রে মাথায় হাত স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের! ২ দিনেই গায়েব ৫০ হাজার কোটি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডার রক্ষা করতে দেশবাসীকে আগামী এক বছর সোনা কেনায় লাগাম টানার আবেদন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরপরই দেশের শেয়ার বাজারে সোনার গয়না প্রস্তুতকারী শীর্ষ তিন সংস্থা— টাইটান, কল্যাণ জুয়েলার্স এবং সেনকো গোল্ডের শেয়ারে নজিরবিহীন ধস নেমেছে। গত দুই কর্মদিবসে এই তিন সংস্থার সম্মিলিত বাজার মূলধন বা মার্কেট ক্যাপ ৫০ হাজার কোটি টাকারও বেশি কমে গিয়েছে।
শেয়ার বাজারে রক্তক্ষরণ ও বড় আর্থিক লোকসান
সপ্তাহের শুরু থেকেই টাইটান, কল্যাণ জুয়েলার্স ও সেনকো গোল্ডের শেয়ার বিক্রির প্রবল চাপ তৈরি হয়। সোমবার এই তিন সংস্থার বাজার মূলধন কমেছিল প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা। মঙ্গলবারও পতনের সেই ধারা অব্যাহত থাকায় আরও ১৫ হাজার কোটি টাকার লোকসান হয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, টাইটানের শেয়ার দর দু’দিনে প্রায় ১১ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। অন্যদিকে, কল্যাণ জুয়েলার্স এবং সেনকো গোল্ডের শেয়ারেও বড় অঙ্কের পতন লক্ষ করা গিয়েছে। সংস্থার লভ্যাংশ বা রাজস্ব প্রত্যাশা ছাপিয়ে গেলেও প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যের প্রভাবে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
বৈদেশিক মুদ্রার সংকট ও আমদানিতে রাশ
হায়দরাবাদের এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী জানান, পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আবহে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ও আমদানি খরচ অনেকটাই বেড়েছে। ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডারের ওপর চাপ কমাতে সোনা আমদানিতে খরচ কমানো জরুরি। ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম সোনা আমদানিকারক দেশ হওয়ায় এই খরচ সরাসরি অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলে। সরকারি সূত্রের খবর, শুল্ক সংক্রান্ত জটিলতা এবং ব্যাংকের কঠোর অবস্থানের কারণে চলতি বছরের এপ্রিলে ভারতে সোনা আমদানি গত তিন দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও প্রতিকারের উপায় খুঁজতে ক্ষতিগ্রস্থ স্বর্ণসংস্থাগুলির প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (পিএমও) আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করতে পারেন বলে জানা গিয়েছে। ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অভ্যন্তরীণ নীতি পরিবর্তনের এই জোড়া ধাক্কায় দেশের গয়না শিল্প বর্তমানে এক অনিশ্চিত সময়ের মুখোমুখি।
