নিট কেলেঙ্কারিতে বড় অ্যাকশন: জয়পুর থেকে গ্রেফতার ‘মূলচক্রী’, পুলিশের জালে আরও ১৫! – এবেলা

নিট কেলেঙ্কারিতে বড় অ্যাকশন: জয়পুর থেকে গ্রেফতার ‘মূলচক্রী’, পুলিশের জালে আরও ১৫! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নিট-ইউজি’ (NEET-UG) ঘিরে আবারও দুর্নীতির কালো ছায়া। ২০২৪ সালের বিতর্কিত স্মৃতি উসকে দিয়ে ২০২৬ সালেও প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে তোলপাড় জাতীয় রাজনীতি। পরিস্থিতি বিচার করে পরীক্ষা বাতিলের পথে হেঁটেছে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)। এই চক্রের জাল ছিঁড়তে রাজস্থান পুলিশের স্পেশ্যাল অপারেশন গ্রুপ (SOG) বড়সড় অভিযান চালিয়ে জয়পুর থেকে মণীশ নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে, যাকে এই জালিয়াতির ‘মূলচক্রী’ বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া সীকর জেলা থেকে আরও ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে।

তদন্তে উঠে এসেছে যে, ৩ মে পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগেই বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে পড়েছিল। গোয়েন্দাদের প্রাথমিক অনুমান, রাজস্থানের সীকর জেলা থেকেই এই ফাঁসের সূত্রপাত। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই দিল্লির রাজপথে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন কয়েক লক্ষ পরীক্ষার্থী। ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে পরীক্ষার্থীরা প্রশাসনের চূড়ান্ত ব্যর্থতা নিয়ে সরব হয়েছেন।

অতীতের সেই চেনা কারসাজি

বর্তমান পরিস্থিতির সাথে ২০২৪ সালের হাজারিবাগ কেলেঙ্কারির অদ্ভুত মিল খুঁজে পাচ্ছেন তদন্তকারীরা। সেবার ঝাড়খণ্ডের ওয়েসিস স্কুলের অধ্যক্ষ ও সহ-অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করেছিল সিবিআই। পঙ্কজ কুমার ওরফে সাহিল নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে হাত মিলিয়ে তারা অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে ডিজিটাল সিল খুলে প্রশ্নপত্র চুরি করেছিল। এরপর ‘সলভার গ্যাং’-এর মাধ্যমে সেই প্রশ্ন সমাধান করে কয়েক লক্ষ টাকার বিনিময়ে পরীক্ষার্থীদের কাছে বিক্রি করা হতো। এবারও সেই একই ধরনের কোনো প্রভাবশালী চক্র সক্রিয় ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

প্রশাসনিক নিরাপত্তা ও প্রভাব

বারবার নিট পরীক্ষার সুরক্ষা কবচ ভেদ হওয়া এনটিএ-র বিশ্বাসযোগ্যতাকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা ও প্রশ্নপত্র পরিবহনের কড়া নজরদারি সত্ত্বেও কীভাবে বারবার প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কেবল পরীক্ষা বাতিল বা নিচু স্তরের এজেন্টদের ধরলে এই সমস্যার সমাধান হবে না; বরং এই ব্যবস্থার রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে থাকা প্রভাবশালীদের চিহ্নিত করা প্রয়োজন। আপাতত সিবিআই ও রাজস্থান পুলিশের যৌথ তৎপরতায় এই চক্রের শেকড় কতদূর বিস্তৃত, তা খুঁজে বের করাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ। পরবর্তী নির্দেশিকা না আসা পর্যন্ত উৎকণ্ঠার প্রহর গুনছেন দেশের লক্ষ লক্ষ পড়ুয়া।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *