আসামের কুর্সিতে ফের হিমন্ত বিশ্বশর্মা, শরিকদের গুরুত্ব দিয়ে শুরু এনডিএ-র দ্বিতীয় ইনিংস – এবেলা

অসমের কুর্সিতে ফের হিমন্ত বিশ্বশর্মা, শরিকদের গুরুত্ব দিয়ে শুরু এনডিএ-র দ্বিতীয় ইনিংস – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

আসাম বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল জয়ের পর টানা দ্বিতীয়বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করলেন হিমন্ত বিশ্বশর্মা। মঙ্গলবার এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উপস্থিতিতে শপথ নেন তিনি। তবে এবারের মন্ত্রিসভা গঠনে বিজেপি শুধুমাত্র নিজেদের আধিপত্য নয়, বরং জোট রাজনীতির সমীকরণকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। শরিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের যোগ্য সম্মান দিয়ে এনডিএ জোটের স্থায়িত্বের বার্তাই স্পষ্ট করলেন হিমন্ত।

শরিকি গুরুত্ব ও মন্ত্রিসভার বিন্যাস

এবারের নির্বাচনে ১২৬টি আসনের মধ্যে ১০২টি আসন দখল করেছে এনডিএ জোট। এর মধ্যে বিজেপি এককভাবে ৮২টি আসনে জয়লাভ করলেও, সরকার গঠনে আঞ্চলিক দলগুলোর অবদানকে খাটো করে দেখেনি গেরুয়া শিবির। এদিন হিমন্ত বিশ্বশর্মার সঙ্গে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন আরও চারজন সদস্য। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, এই চারজনের মধ্যে দুজনই জোটের শরিক দলের বিধায়ক। বিজেপি থেকে অজন্তা নেওগ ও রামেশ্বর তেলি শপথ নিলেও, আসাম গণ পরিষদ (অগপ) থেকে অতুল বোরা এবং বোড়োল্যান্ড পিপলস ফ্রন্ট (বিপিএফ) থেকে চরণ বোড়োকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

জয়ের কারণ ও রাজনৈতিক প্রভাব

বিশ্লেষকদের মতে, কংগ্রেস জোটকে কার্যত ধূলিসাৎ করে এনডিএ-র এই সাফল্যের নেপথ্যে ছিল সুপরিকল্পিত জোট কৌশল। বিশেষ করে আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চলগুলোতে বিজেপি প্রার্থীদের জয়ে বিপিএফ এবং অগপ-র ভোট ব্যাংক বড় ভূমিকা পালন করেছে। মন্ত্রিসভায় এই আঞ্চলিক দলগুলোকে সমান গুরুত্ব দেওয়ার মাধ্যমে বিজেপি আগামী দিনগুলোতে রাজ্যে জাতিগত ও আঞ্চলিক ভারসাম্য বজায় রাখার ইঙ্গিত দিল। এর ফলে একদিকে যেমন জোটের অন্দরে অসন্তোষের সম্ভাবনা কমবে, অন্যদিকে তৃণমূল স্তরে উন্নয়নমূলক কাজ ত্বরান্বিত করা সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে। হিমন্ত বিশ্বশর্মার হাত ধরে আসামে এনডিএ-র এই নতুন অধ্যায় উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজনীতিতে বিজেপির অবস্থানকে আরও মজবুত করল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *