টলিপাড়ায় দাদাগিরি শেষ! ‘কে ছবি বানাবে সেটা কি অন্য কেউ ঠিক করবে?’ কড়া সওয়াল শমীকের – এবেলা

টলিপাড়ায় দাদাগিরি শেষ! ‘কে ছবি বানাবে সেটা কি অন্য কেউ ঠিক করবে?’ কড়া সওয়াল শমীকের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বাংলা চলচ্চিত্র জগত তথা টলিপাড়ায় দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে এবার সরব হলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। সিনেমা মুক্তি থেকে শুরু করে পরিচালকদের কাজ— সব ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পরিবেশ তৈরির ডাক দিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি কলকাতায় এক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, কে কোন ছবি বানাবেন বা কোন ছবি প্রেক্ষাগৃহে আগে মুক্তি পাবে, তা কেন অন্য কেউ ঠিক করে দেবে? তাঁর মতে, শিল্পীর মর্যাদা রক্ষা করার দায়িত্ব স্বয়ং শিল্পীদেরই নিতে হবে।

নন্দন ও টলিপাড়ায় বদলের হাওয়া

রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকেই টলিপাড়ার একাংশ এবং বিভিন্ন ফেডারেশনের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে কাটাছেঁড়া শুরু হয়েছে। বিশেষ করে সরকারি প্রেক্ষাগৃহ ‘নন্দন’-এ ছবি প্রদর্শন এবং ছবি নির্মাণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক শিবিরের প্রভাব খাটানোর যে অভিযোগ দীর্ঘদিনের, শমীক ভট্টাচার্যের মন্তব্য সেই বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, গত কয়েক বছরে ফেডারেশনের আপত্তিতে একাধিক ছবির মুক্তি আটকে যাওয়ার ঘটনা টলিউডের অন্দরে ক্ষোভ তৈরি করেছে। পরিচালক জয়ব্রত দাসের সিনেমা নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতা এবং ফেডারেশনের খবরদারি সেই অসন্তোষেরই বহিঃপ্রকাশ ছিল।

প্রভাবমুক্ত টলিউডের প্রত্যাশা ও চ্যালেঞ্জ

তৃণমূল জমানায় সরকারি মঞ্চ থেকে রাজনৈতিক সভা— সবখানেই টলিউড তারকাদের উপস্থিতি ছিল অত্যন্ত নিয়মিত। তবে সরকার পরিবর্তনের পর প্রেক্ষাপট বদলেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে টলিপাড়ার প্রথম সারির অভিনেতা ও কলাকুশলীদের উপস্থিতি নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়েছেন, শুধু সিনেমা নয়, ফুটবল ক্লাবের মতো জায়গাতেও যেন রাজনীতির ছায়া না পড়ে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শাসকদলের তকমা নিয়ে শিল্পের কাজে বাধা দেওয়ার সংস্কৃতি বন্ধ হওয়াই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এই পরিবর্তনের ডাক শেষ পর্যন্ত টলিউডকে কতটা স্বাধীন করতে পারে, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *