জ্বালানির জ্বালায় সাধারণ মানুষ জেরবার, ‘ভারতের শক্তি বাড়ছে’ মোদীর টুইট ঘিরে বিতর্ক

পেট্রোল ও ডিজেলের আকাশছোঁয়া দাম এবং লাগাতার মূল্যবৃদ্ধির জেরে দেশজুড়ে যখন নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড়, ঠিক সেই সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি টুইট নিয়ে নেট দুনিয়ায় চর্চা ও বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে। দেশবাসীর সামর্থ্য ও উচ্চাকাঙ্ক্ষার প্রশংসা করলেও, বর্তমান পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যকে ‘অসংবেদনশীল’ বলে কটাক্ষ করছেন সাধারণ নাগরিকদের একাংশ।
জনগণের গুণেই ভারতের উত্থান: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তাঁর টুইটে দেশবাসীর মানসিকতা ও ধৈর্যকে কুর্নিশ জানিয়ে লেখেন, নাগরিকদের অদম্য ইচ্ছাশক্তি এবং পরিশ্রমের গুণেই বিশ্বদরবারে ভারতের শক্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি নাগরিকদের সামর্থ্য ও উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে বর্ণনা করেন। তবে এই ইতিবাচক বার্তার মাঝেও তাঁর একটি বিশেষ মন্তব্য নেটিজেনদের নজর কেড়েছে। প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “জ্ঞানীরা কোনো কিছুকেই তুচ্ছ করেন না”—এই দার্শনিক উক্তিটির মাধ্যমেই তিনি বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করতে চেয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নেটিজেনদের তীব্র প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনা
জ্বালানির দাম যখন সেঞ্চুরি ছাড়িয়ে প্রতিদিন নতুন রেকর্ড গড়ছে, তখন প্রধানমন্ত্রীর এই ‘দার্শনিক’ টুইটকে ভালো চোখে দেখছেন না নেটিজেনদের বড় একটি অংশ। সমাজমাধ্যমে শুরু হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া:
- উদাসীনতার অভিযোগ: অনেক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন যে, যখন মধ্যবিত্ত মানুষ যাতায়াত ও নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে পিষ্ট, তখন এই ধরনের মন্তব্য আসলে সাধারণ মানুষের সমস্যার প্রতি সরকারের উদাসীনতারই বহিঃপ্রকাশ।
- জ্ঞানীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন: ‘জ্ঞানীরা কোনো কিছুকে তুচ্ছ করেন না’—প্রধানমন্ত্রীর এই বাক্যের ব্যাখ্যা খুঁজতে গিয়ে অনেকেই পালটা প্রশ্ন তুলেছেন, সাধারণ মানুষের পকেট খালি হওয়াটা কি সরকারের কাছে তুচ্ছ কোনো বিষয়?
- সমর্থন: অবশ্য প্রধানমন্ত্রীর অনুগামীরা এই টুইটকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন। তাঁদের মতে, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও দেশের মনোবল চাঙ্গা রাখতেই প্রধানমন্ত্রী এই বার্তা দিয়েছেন।
বিরোধীদের নিশানা
বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোও প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যকে হাতিয়ার করে আসরে নেমেছে। তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের ওঠানামাকে ঢাল করে সরকার আসলে আমজনতার ওপর করের বোঝা চাপাচ্ছে। একদিকে মূল্যবৃদ্ধি আর অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর এই ‘উপদেশমূলক’ টুইট—সব মিলিয়ে বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এখন দেখার, সাধারণ মানুষের এই ক্ষোভের মুখে সরকার জ্বালানির শুল্ক কমিয়ে কোনো স্বস্তি দেয় কি না।
