অন্ধ্রপ্রদেশে ১৬ হাজার কোটির যুদ্ধবিমান প্রকল্প! শিলান্যাস করলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ভারতের প্রতিরক্ষা খাতে এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা করে অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রী সত্য সাই জেলায় ১৬,০০০ কোটি টাকার পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান (এএমসিএ) প্রকল্পের পরিকাঠামোগত ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু যৌথভাবে এই মেগা প্রকল্পের শিলান্যাস করেন। ডিআরডিও-র অধীনস্থ অ্যারোনটিক্যাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি (এডিএ) দ্বারা পুট্টাপূর্তিতে এই অত্যাধুনিক বিমান ইন্টিগ্রেশন এবং অ্যাডভান্সড ফ্লাইট টেস্টিং সেন্টারটি তৈরি করা হচ্ছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর মতে, এই ধরণের বিশেষ সুবিধা বিশ্বের মাত্র কয়েকটি দেশের কাছেই রয়েছে।
ড্রোন সিটি ও সমরাস্ত্র নির্মাণের নতুন হাব
এই প্রকল্পের অধীনে অন্ধ্রপ্রদেশের কুর্নুল জেলাকে একটি বৈশ্বিক ড্রোন হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের আওতায় আটটি ড্রোন কো ম্পা নি যৌথভাবে সেখানে একটি সুবিশাল ‘ড্রোন সিটি’ প্রতিষ্ঠা করছে। সুরাটের ডায়মন্ড সিটি বা বেঙ্গালুরুর সিলিকন ভ্যালির মতোই কুর্নুল ড্রোন প্রযুক্তিতে বিশ্বমঞ্চে ভারতের নাম উজ্জ্বল করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। এছাড়া, ভারত ডাইনামিক্স লিমিটেড ৪৮০ কোটি টাকা বিনিয়োগে উন্নত চালকবিহীন আন্ডারওয়াটার সিস্টেম ও টর্পেডো তৈরি করবে, যা দেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও ‘ব্লু ইকোনমি’কে আরও শক্তিশালী করবে। পাশাপাশি ভারত ফোর্জের সহযোগী সংস্থা ‘অগ্ন্যাস্ত্র’ ১,৫০০ কোটি টাকা এবং এইচএফসিএল ১,২৯৪ কোটি টাকা বিনিয়োগে ফিউজ উৎপাদন কেন্দ্রসহ দূরদর্শী যুদ্ধাস্ত্র তৈরি করবে।
কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও শক্তিশালী অর্থনীতি
প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালে ভারতের অভ্যন্তরীণ প্রতিরক্ষা উৎপাদন যেখানে ছিল ৪৬,০০০ কোটি টাকা, তা বর্তমানে বৃদ্ধি পেয়ে ১.৫৪ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে এবং খুব শীঘ্রই তা ১.৭৫ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছাবে। একই সাথে প্রতিরক্ষা রপ্তানি ৬০০ কোটি টাকা থেকে লাফিয়ে ৪০,০০০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এই নতুন প্রকল্পগুলির ফলে ভারতের বিদেশি নির্ভরতা যেমন কমবে, তেমনই পুট্টাপূর্তির ৬৫০ একর জমিতে গড়ে ওঠা এই প্রকল্পকে কেন্দ্র করে একটি ডেডিকেটেড টাউনশিপ গড়ে উঠবে। এর ফলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৭,৫০০ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এর পাশাপাশি, অন্ধ্রপ্রদেশের জোন্নাগিরি খনি থেকে এই বছরই সোনা উত্তোলন শুরু হতে যাচ্ছে, যা আগামী দিনে দেশের অর্থনীতিকে আরও বেগবান করবে।
