NEET প্রশ্ন ফাঁসের মাস্টারমাইন্ড পিভি কুলকার্নি গ্রেফতার! প্রশ্ন তৈরি কমিটির সদস্যই ছিল প্রধান চক্রী – এবেলা

NEET প্রশ্ন ফাঁসের মাস্টারমাইন্ড পিভি কুলকার্নি গ্রেফতার! প্রশ্ন তৈরি কমিটির সদস্যই ছিল প্রধান চক্রী – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় এক চাঞ্চল্যকর মোড় এসেছে। এই চক্রের মূল হোতা বা মাস্টারমাইন্ড পিভি কুলকার্নিকে মহারাষ্ট্র থেকে গ্রেফতার করেছে সিবিআই। জানা গেছে, অভিযুক্ত কুলকার্নি মহারাষ্ট্রের লাতুরের একটি কলেজের রসায়ন বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত লেকচারার এবং সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, তিনি নিটের প্রশ্নপত্র তৈরি কমিটির অন্যতম সদস্য ছিলেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, প্রশ্নপত্র তৈরি কমিটির সদস্য হওয়ার সুবাদে গত এপ্রিল মাসের শেষ সপ্তাহে প্রশ্নপত্র কুলকার্নির হাতে আসে। এরপর পুনের বাসিন্দা মনীষা বাঘমারে নামে এক নারীর সহায়তায় তিনি তা ফাঁস করে দেন। গত ৩ মে অনুষ্ঠিত হওয়া এই নিট পরীক্ষা প্রশ্ন ফাঁসের সত্যতা মেলার পর বাতিল করা হয়েছিল। গত ১২ মে সিবিআই এই ঘটনায় এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করার পর কুলকার্নিসহ এ পর্যন্ত মোট আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

যেভাবে ছড়ানো হয়েছিল প্রশ্নপত্র

সিবিআই-এর এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গত বৃহস্পতিবার মনীষা বাঘমারে নামের ওই নারীকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে কুলকার্নির নাম সামনে আসে। মনীষা নিজের বাড়িতে শিক্ষার্থীদের নিট পরীক্ষার প্রস্তুতি দেখাতেন। কুলকার্নির কাছ থেকে প্রশ্নপত্র পাওয়ার পর মনীষা শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বিশেষ ক্লাসের আয়োজন করেন। সেখানে তিনি নিট পরীক্ষায় আসতে যাওয়া সম্ভাব্য প্রশ্ন, বিকল্প উত্তর এবং সঠিক উত্তর নিয়ে আলোচনা করেন। সিবিআই তল্লাশি চালিয়ে শিক্ষার্থীদের হাতের লেখা যে নোটবুক উদ্ধার করেছে, তার সাথে আসল নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের হুবহু মিল পাওয়া গেছে।

নেপথ্য কারণ ও গভীর ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা

প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে, বিপুল অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের লোভেই প্রশ্নপত্র তৈরির দায়িত্বে থাকা কমিটির সদস্য এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন। তবে সিবিআই সন্দেহ করছে, এই চক্রে শুধু কুলকার্নি একা নন, জাতীয় পরীক্ষা নিয়ামক সংস্থা (NTA)-র প্রশ্নপত্র তৈরি কমিটির অন্য সদস্যরাও জড়িত থাকতে পারেন। রাজস্থানে ‘গেস পেপার’-এর আড়ালে বিক্রি হওয়া ফাঁসের প্রশ্নে জীববিজ্ঞানের প্রশ্নপত্রও হুবহু মিলে গেছে। রসায়নের শিক্ষক হওয়া সত্ত্বেও কুলকার্নির হাতে জীববিজ্ঞানের প্রশ্ন কীভাবে পৌঁছাল, তা এখন খতিয়ে দেখছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা।

পরীক্ষা ব্যবস্থার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব

এই ঘটনার ফলে দেশের অন্যতম বৃহৎ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রবেশিকা পরীক্ষার বিশ্বস্ততা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। এনটিএ-র কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই চক্রে জড়িত আছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সিবিআই বর্তমানে প্রশ্নপত্র তৈরি থেকে শুরু করে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছানো পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত ডিজিটাল ডিভাইসগুলোর ফরেনসিক পরীক্ষা করছে। এই জালিয়াতির গভীরতা এতটাই বেশি যে, আগামী দিনগুলোতে আরও বেশ কিছু বড় ধরনের গ্রেফতারির সম্ভাবনা রয়েছে, যা দেশের সামগ্রিক শিক্ষা ও পরীক্ষা ব্যবস্থায় বড়সড় সংস্কার আনতে বাধ্য করতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *