জ্বালানি সাশ্রয়ে এবার দিল্লির বেসরকারি সংস্থাতেও সপ্তাহে দু’দিন ওয়ার্ক ফ্রম হোম! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের আবহে দেশের তেল সাশ্রয় ও বৈদেশিক মুদ্রাভান্ডার সুরক্ষিত করতে বড় পদক্ষেপ নিল দিল্লি সরকার। সরকারি দপ্তরের পর এবার দিল্লির সমস্ত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলিকেও সপ্তাহে অন্তত দু’দিন কর্মীদের ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা বাড়ি থেকে কাজ করানোর জোরালো অনুরোধ জানিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তের প্রশাসন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দেশব্যাপী জ্বালানি সাশ্রয়ের আহ্বানের পর, দিল্লিতে শুরু হওয়া ৯০ দিনের ‘মেরা ভারত, মেরা যোগদান’ কর্মসূচির অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বেসরকারি সংস্থাগুলির প্রতি সরকারের এই আর্জিতে অফিসের কর্মঘণ্টায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার পাশাপাশি কর্মীদের ব্যক্তিগত গাড়ির বদলে ‘কারপুল’ বা গণপরিবহণ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে দিল্লির শ্রম দপ্তর। তবে হাসপাতাল এবং জরুরি স্বাস্থ্য পরিষেবাকে এই নিয়মের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। এর আগে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে নিজের কনভয়ের গাড়ির সংখ্যা কমিয়েছেন এবং দিল্লির সরকারি কর্মীদের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম ইতিপূর্বেই কার্যকর করা হয়েছে।
সংকটের কারণ ও পটভূমি
মূলত পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল সরবরাহে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে হু হু করে বাড়ছে তেলের দাম। ভারত তার প্রয়োজনীয় পেট্রোপণ্যের সিংহভাগই বিদেশ থেকে আমদানি করে। ফলে বিশ্ববাজারের এই মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশের অর্থনীতির ওপর। এই পরিস্থিতিতে দেশের অভ্যন্তরে তেলের অপচয় ও ব্যবহার কমিয়ে আনা ছাড়া বিকল্প কোনো পথ নেই।
অর্থনীতি ও জনজীবনে সম্ভাব্য প্রভাব
দিল্লির মতো মেগাসিটিতে বিপুল সংখ্যক বেসরকারি চাকুরিজীবী যদি সপ্তাহে দু’দিন বাড়ি থেকে কাজ করেন, তবে দৈনিক জ্বালানির ব্যবহারে বড়সড় পতন আসবে। এটি জাতীয় স্তরে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রাভান্ডার সাশ্রয় করতে সাহায্য করবে। পাশাপাশি, রাস্তায় গাড়ির সংখ্যা কমলে দিল্লির চিরকালীন যানজট ও দূষণ নিয়ন্ত্রণেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে উৎপাদনমুখী ও যেসব ক্ষেত্রে সশরীরে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক, সেই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলির কাজের গতি কিছুটা প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
