গ্রেফতারি এড়ানোর সব পথ বন্ধ, অবশেষে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর ছেলে! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পকসো (POCSO) মামলায় শেষরক্ষা হলো না কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রীর ছেলের। তেলঙ্গানা হাইকোর্ট গ্রেফতারি থেকে অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষা দিতে অস্বীকার করার পর, অবশেষে সাইবারাবাদ পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বান্দি সঞ্জয় কুমারের পুত্র বান্দি ভাগীরথ। ১৭ বছর বয়সী এক নাবালিকার মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে এই মামলা রুজু হয়েছিল। ভাগীরথ যাতে কোনোভাবেই দেশ ছেড়ে পালাতে না পারে, সেজন্য পুলিশ তার বিরুদ্ধে লুকআউট সার্কুলারও জারি করেছিল।
রাজনৈতিক ও আইনি টানাপোড়েনের পর মন্ত্রীর ছেলের এই আত্মসমর্পণকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতি ও রাজ্য প্রশাসনে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
আইনের চোখে সবাই সমান, দাবি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর
ছেলের আত্মসমর্পণের পর এক বিবৃতিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বান্দি সঞ্জয় কুমার জানিয়েছেন যে, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাবশত এবং পুলিশি তদন্তের স্বার্থেই আইনজীবীদের মাধ্যমে ভাগীরথকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আইনের চোখে সবাই সমান—সে সাধারণ নাগরিক হোক বা কোনো মন্ত্রীর ছেলে। তবে এর আগে তেলঙ্গানার এই বিজেপি নেতা অভিযোগ করেছিলেন যে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে তার পরিবারকে নিশানা করা হচ্ছে এবং অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। মন্ত্রীর দাবি, তার ছেলে নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেছে এবং আইনজীবীদের পরামর্শে আইনি নথিপত্র গোছানোর কারণেই আত্মসমর্পণে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।
তীব্র হচ্ছে রাজনৈতিক চাপ ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই তেলঙ্গানার রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। তেলঙ্গানা রক্ষা সেনা (টিআরএস)-এর সভাপতি কে কবিতা সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি লিখে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী বান্দি সঞ্জয় কুমারকে মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণের দাবি জানিয়েছেন। তার মতে, মন্ত্রী পদে বহাল থাকলে এই স্পর্শকাতর মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত ব্যাহত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনাটি একদিকে যেমন পকসো আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং আদালতের নিরপেক্ষতাকে তুলে ধরেছে, অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দলের ভাবমূর্তির ওপরও এক বড় ধাক্কা। পকসো মামলার মতো গুরুতর অভিযোগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর ছেলের নাম জড়ানো এবং হাইকোর্ট কর্তৃক জামিনের আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়া আগামী দিনে এই তদন্তের গতিপ্রকৃতি ও রাজনৈতিক সমীকরণকে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার।
