দলীয় কার্যালয়ে সাধারণ মানুষের সরকারি নথিপত্র, কী লুকানো আছে গড়বেতার ওই বন্ধ আলমারিতে! – এবেলা

দলীয় কার্যালয়ে সাধারণ মানুষের সরকারি নথিপত্র, কী লুকানো আছে গড়বেতার ওই বন্ধ আলমারিতে! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

শালবনী বিধানসভার অন্তর্গত গড়বেতা তিন নম্বর ব্লকের চন্দ্রকোনারোডের করসা ২ নম্বর অঞ্চলের ছোটতাড়া এলাকায় তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা শাসকদলের একটি কার্যালয় থেকে থরে থরে সাজানো একশো দিনের কাজের জব কার্ড, ভোটার আইডি কার্ড এবং জমির আসল দলিল উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। একটি রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে কীভাবে সাধারণ মানুষের পরিচয়পত্র ও সরকারি নথিপত্র মজুত থাকল, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক স্তরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

সন্দেহ থেকে চাঞ্চল্যকর নথি উদ্ধার

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই ছোটতাড়া এলাকার ওই তৃণমূল কংগ্রেস কার্যালয়টি বন্ধ ছিল। রবিবার সকালে আচমকা স্থানীয় বিজেপি কর্মীরা লক্ষ্য করেন যে কার্যালয়টি খোলা হয়েছে এবং সামনে একটি টোটো দাঁড় করিয়ে তড়িঘড়ি কিছু মালপত্র ও নথিপত্র সরানোর চেষ্টা চলছে। সন্দেহ হওয়ায় বিজেপির শালবনী এক নম্বর মণ্ডলের সাধারণ সম্পাদক বাপন মল্লিক ও পলাশ সেনের নেতৃত্বে কর্মীরা সেখানে জড়ো হন এবং কার্যালয়ের ভেতরে ঢোকেন।

কার্যালয়ের ভেতরের আলমারি খুলতেই দেখা যায়, তার মধ্যে থরে থরে সাজানো রয়েছে কয়েকশো জব কার্ডের বই, প্রচুর পরিমাণে ভোটার কার্ড এবং এলাকার সাধারণ মানুষের জমির আসল দলিল। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই মুহূর্তের মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দারা ওই কার্যালয়ের সামনে ভিড় জমান। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ঘটনাস্থলে গড়বেতা থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং উদ্ধার হওয়া নথিপত্র খতিয়ে দেখার প্রক্রিয়া শুরু করে।

দুর্নীতির অভিযোগ ও বন্ধ আলমারির রহস্য

বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, আলমারির একটি বড় অংশ এখনও লক থাকায় খোলা সম্ভব হয়নি। সেটি খোলা গেলে আরও বহু অবৈধ নথিপত্র এবং চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। বিজেপির অভিযোগ, সাধারণ মানুষের একশো দিনের কাজের টাকা আত্মসাৎ করতে এবং নির্বাচনের সময় ভয় দেখিয়ে ভোট ব্যাংক ধরে রাখতেই এই সমস্ত কার্ড ও দলিল আটকে রাখা হয়েছিল। এর পেছনে একটি সংগঠিত ও বড়সড় আর্থিক দুর্নীতি জড়িয়ে রয়েছে।

অন্যদিকে, জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব এই অভিযোগ অস্বীকার করে একে একটি চক্রান্ত বলে দাবি করেছে। তাদের মতে, পুলিশি তদন্ত হলেই আসল সত্য সামনে আসবে। আপাতত নথিপত্রগুলো কেন এবং কার স্বার্থে সেখানে মজুত রাখা হয়েছিল, তা নিশ্চিত করতে গড়বেতা থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *