গরিবের পেটে লাথি মেরে কি আসবে প্রকৃত উন্নয়ন, বুলডোজার রাজনীতি নিয়ে তোলপাড় বাংলা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতা বদলের পর থেকেই রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে ‘বুলডোজার অ্যাকশন’। বেআইনি নির্মাণ ভাঙার পাশাপাশি হাওড়া ও শিয়ালদহ স্টেশনের ফুটপাথ থেকে হকারদের উচ্ছেদ করার ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষমতা দখলের পরেই শাসকদল বিজেপি স্পষ্ট জানিয়েছিল যে, কোনো ধরনের বেআইনি নির্মাণ বা অনৈতিক কাজ বরদাস্ত করা হবে না। সেই প্রতিশ্রুতি মেনেই গত কয়েকদিনে রাজ্যের একাধিক প্রান্তে ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
উচ্ছেদ বনাম অধিকারের সংঘাত
শনিবার রাতে রেল কর্তৃপক্ষের তৎপরতায় হাওড়া স্টেশনের বাইরে ফুটপাথের প্রায় ১৫০টি দোকান বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। রেলের দাবি, স্টেশন চত্বরকে যানজট ও ঘিঞ্জি পরিবেশ থেকে মুক্ত করে যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য ফেরাতেই এই পদক্ষেপ। একই দৃশ্য দেখা গেছে শিয়ালদহ স্টেশন এলাকাতেও। অভিযোগ, পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে হকার ইউনিয়নের দাপটে স্টেশন সংলগ্ন এলাকাগুলিতে যত্রতত্র অবৈধ স্টল গজিয়ে উঠেছিল। এর পেছনে নিয়মিত আর্থিক লেনদেন বা ‘তোলা’বাজির তত্ত্বও সামনে এনেছে বর্তমান শাসকদল। বিজেপির স্পষ্ট বক্তব্য, তারা কোনো ধরনের দুর্নীতি ও বেআইনি কাজকে প্রশ্রয় দেবে না এবং নিয়ম মেনেই এই পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হচ্ছে।
মানবিকতার প্রশ্নে সরব বিরোধী শিবির
হঠাৎ শুরু হওয়া এই উচ্ছেদ অভিযানের জেরে ঘরবাড়ি ও জীবিকা হারিয়ে চরম সংকটে পড়েছেন বহু নিম্নবিত্ত মানুষ। বিকল্প পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে এভাবে উচ্ছেদ করার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি একে ‘রাজনৈতিক ঔদ্ধত্য’ বলে কটাক্ষ করেছেন। তাঁর মতে, রবীন্দ্রনাথ ও নেতাজির এই পুণ্যভূমিতে ভয় বা বলপ্রয়োগের মাধ্যমে শাসন চালানো যায় না। তিলজলা ও পার্ক সার্কাস এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হওয়া ক্ষোভ ও হতাশার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, রাষ্ট্র পরিচালনার ভাষা কখনোই বুলডোজার হতে পারে না। একটি কল্যাণকামী সরকারের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত দুর্বলতম নাগরিকদের সুরক্ষা দেওয়া, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে লঙ্ঘিত হচ্ছে।
ভবিষ্যৎ প্রভাব ও সামাজিক অস্থিরতা
এই উচ্ছেদ অভিযানের ফলে একদিকে যেমন স্টেশন চত্বর হকারমুক্ত হওয়ায় সাধারণ রেলযাত্রীরা স্বস্তি প্রকাশ করছেন, অন্যদিকে তেমনই তৈরি হয়েছে গভীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট। আগাম সঠিক পুনর্বাসন না দিয়ে রাতারাতি কয়েকশো পরিবারের রুটি-রুজি কেড়ে নেওয়ার ফলে তিলজলা, পার্ক সার্কাসসহ বিভিন্ন এলাকায় জনবিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থান যদি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ও পুনর্বাসনের নীতি এড়িয়ে চলে, তবে আগামী দিনে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং সামাজিক অস্থিরতা আরও তীব্র রূপ নিতে পারে।
