ভরাডুবির পর তৃণমূলের অন্দরে মহাবিস্ফোরণ, মমতার অন্ধ স্নেহ নিয়ে বিস্ফোরক পার্থ চট্টোপাধ্যায়! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
নির্বাচনে দলের বিপর্যয়ী ফলাফলের পর এবার তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন ক্ষোভ উগরে দিলেন এককালের দলীয় সুপ্রিমোর ছায়া সঙ্গী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। দলের এই হারের জন্য সরাসরি তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুর্বলতা এবং রণকৌশলকে দায়ী করেছেন তিনি। একইসঙ্গে মুকুল রায় ও শুভেন্দু অধিকারীর দল ছাড়ার প্রসঙ্গ টেনে দলের বর্তমান নীতি এবং অন্ধ স্নেহের তীব্র সমালোচনা করেছেন এই প্রবীণ নেতা।
নেতৃত্বের সংকট এবং ‘উত্তরাধিকার’ বিতর্ক
পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মতে, দলের এই ফলের পর আত্মতুষ্টির কোনো জায়গা নেই। তৃণমূলের ভোট ব্যাংক যে ক্ষয়িষ্ণু, তা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, ৪১ শতাংশ ভোট পেয়ে আনন্দিত হওয়ার কিছু নেই। আঞ্চলিক দলগুলোর উদাহরণ টেনে তিনি অবিলম্বে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যোগ্য উত্তরাধিকারী খোঁজার ওপর জোর দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শিবসেনা বা স্টালিনের মতো দলগুলো সময়মতো পরিস্থিতি বুঝলেও তৃণমূল তা পারছে না। মমতার বিকল্প যে এখনও তৈরি করা সম্ভব হয়নি, সেই বাস্তবতাকে মেনে নিয়েই দলের খোলনলচে বদলানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
অন্ধ স্নেহ ও আদি বনাম নব্য সংঘাত
দলের ভাঙন এবং বর্তমান নেতৃত্বের কার্যপদ্ধতি নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, একজনের আধিপত্য বজায় রাখতে গিয়ে মুকুল রায় বা শুভেন্দু অধিকারীর মতো হেভিওয়েট নেতাদের দল ছাড়তে হয়েছে, যা আজকে বিরোধীদের শক্তিশালী করেছে। বর্তমান নেতৃত্বের শরীরী ভাষা এবং দক্ষিণী কায়দায় জনসংযোগের সমালোচনা করে তিনি একে নেত্রীর অন্ধ স্নেহের ফল বলে অভিহিত করেছেন। শওকত মোল্লা বা আরাবুল ইসলামের মতো পুরনো ও দক্ষ সংগঠকদের গুরুত্বহীন করে দেওয়া এবং নিজের পুরনো জেলাগুলোতে (যেমন ঝাড়গ্রাম, নদীয়া বা কোচবিহার) দলের শোচনীয় ফলাফলের জন্য নেতৃত্বের ভুল নীতিকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন তিনি।
ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রভাব
রাজনৈতিক মহলের মতে, পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের এই বিস্ফোরক মন্তব্য তৃণমূলের ভেতরের আদি ও নব্য শিবিরের কোন্দলকে এক ধাক্কায় অনেকটা বাড়িয়ে দিল। নির্বাচনের পর যখন ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই চলছে, তখন দলের অন্দরের এই ক্ষোভ ও নেতৃত্বের শূন্যতা নিয়ে প্রশ্ন আগামী দিনে দলের রণকৌশল ও সাংগঠনিক ঐক্যের ওপর বড়সড় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে পুরনো নেতাদের ক্ষোভ যদি নিচুতলার কর্মীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে, তবে তা জোড়াফুল শিবিরের জন্য আরও বড় সংকটের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
