ইরান যুদ্ধের আঁচে চড়ছে জ্বালানির পারদ, কলকাতায় পেট্রোল ১১০ পার – এবেলা

ইরান যুদ্ধের আঁচে চড়ছে জ্বালানির পারদ, কলকাতায় পেট্রোল ১১০ পার – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতিতে ইরান যুদ্ধের আবহে বিশ্ব বাজারে ক্রমাগত বাড়ছে অপরিশোধিত তেলের দাম। যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে ভারতের বাজারেও। গত ১০ দিনে দেশের বাজারে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম লিটার প্রতি প্রায় ৫ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। শুক্রবারের পর শনিবার, ২৩ মে ফের এক দফায় মহার্ঘ হয়েছে জ্বালানি। নতুন দফায় লিটার প্রতি পেট্রোলের দাম ৮৭ পয়সা এবং ডিজেলের দাম ৯১ পয়সা বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যের এই ঊর্ধ্বগতির কারণে দেশের সাধারণ মানুষের পকেটে টান পড়তে শুরু করেছে।

রেকর্ড ছুঁয়েছে হায়দরাবাদ, কলকাতার পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক

সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির পর দেশের মেট্রো শহরগুলির মধ্যে জ্বালানির দাম সবচেয়ে বেশি দাঁড়িয়েছে হায়দরাবাদে। সেখানে প্রতি লিটার পেট্রোল বিক্রি হচ্ছে ১১২.১৮ টাকায় এবং ডিজেলের দাম সেঞ্চুরি পার করে দাঁড়িয়েছে ১০০.৯৪ টাকায়। এছাড়া তিরুবনন্তপুরমেও পেট্রোলের দাম ১১২ টাকা ছাড়িয়েছে। পিছিয়ে নেই কলকাতাও। তিলোত্তমায় পেট্রোলের দাম ইতিমধ্যেই ১১০ টাকার গণ্ডি পেরিয়ে গেছে এবং ডিজেলের দাম প্রতি লিটার প্রায় ৯৮ টাকার কাছাকাছি পৌঁছেছে। ভুবনেশ্বর এবং পটনাতেও জ্বালানির গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী। তবে এই সংকটের মধ্যেও দেশের মধ্যে সবচেয়ে কম দামে তেল মিলছে চণ্ডীগড়ে, যেখানে পেট্রোল ৯৮.৯৭ টাকা এবং ডিজেল ৮৬.৯৪ টাকা। দিল্লি ও লখনউতেও জ্বালানির দাম তুলনামূলক কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

মূল্যবৃদ্ধির কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

সরকারি সূত্রের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে তীব্র তেল সংকট তৈরি হওয়া সত্ত্বেও সরকার দীর্ঘ ৭৬ দিন দেশীয় বাজারে দাম বাড়তে দেয়নি। গত মার্চ মাসেও কেন্দ্র পেট্রোল-ডিজেলের উপর ১০ টাকা আবগারি শুল্ক কমিয়েছিল। তবে পরিস্থিতি জটিল হওয়ায় মে মাসের ১৫, ১৯ এবং ২৩ তারিখে তিন দফায় এই দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছে তেল বিপণন সংস্থাগুলি। আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় ভারতে মূল্যবৃদ্ধির হার এখনও ২০ থেকে ৮০ শতাংশ কম রাখা হয়েছে বলেও দাবি করা হচ্ছে।

অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্ব বাজারে অপরিশোধিত তেলের জোগান ব্যাহত হলে আগামী দিনে ভারতে জ্বালানির দাম আরও বাড়তে পারে। এর ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পরিবহণ খরচ বৃদ্ধি পেয়ে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দেশের কিছু এলাকায় সাময়িকভাবে জ্বালানি সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিলেও বিপণন সংস্থাগুলি জানিয়েছে, সামগ্রিকভাবে দেশে তেলের জোগান স্বাভাবিক রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *