বিয়ের ১৫ দিনেই ঘরে প্রেমিকা, ছেলেদের অশান্তি থামাতে গিয়ে প্রাণ হারালেন বাবা! – এবেলা

বিয়ের ১৫ দিনেই ঘরে প্রেমিকা, ছেলেদের অশান্তি থামাতে গিয়ে প্রাণ হারালেন বাবা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গায় পরকীয়া সম্পর্কের জেরে এক মর্মান্তিক পারিবারিক tragedies বা বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে। বিয়ের মাত্র ১৫ দিনের মাথায় নববিবাহিত যুবক নিজের প্রেমিকাকে বাড়িতে নিয়ে আসায় দুই ভাইয়ের মধ্যে তুমুল বিবাদ শুরু হয়। সেই অশান্তি থামাতে গিয়ে ধাক্কাধাক্কিতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে মৃত্যু হয়েছে বছর পঞ্চাশের এক ব্যক্তির। দেগঙ্গার চাকলা গ্রাম পঞ্চায়েতের সিরাজপুর গ্রামের এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নিহত ব্যক্তির নাম শরিফুল ইসলাম। ঘটনার পর অভিযুক্ত ছেলেকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

পরকীয়া বিবাদ ও মর্মান্তিক পরিণতি

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দিন পনেরো আগে সিরাজপুর গ্রামের বাসিন্দা শরিফুল ইসলামের ছেলে রাকিবুলের বিয়ে হয়েছিল। কিন্তু বিয়ের পরও অন্য এক মহিলার সঙ্গে রাকিবুলের পরকীয়া সম্পর্ক বজায় ছিল। শনিবার ভোর পাঁচটা নাগাদ আচমকাই নিজের প্রেমিকাকে সঙ্গে নিয়ে বাড়িতে হাজির হন রাকিবুল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাকিবুলের সঙ্গে তাঁর বড় ভাই আহসান হাবিবের তীব্র বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে দুই ছেলের ঝামেলা থামাতে এগিয়ে আসেন বাবা শরিফুল ইসলাম। সেই সময় হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কির মধ্যে পড়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে দ্রুত বিশ্বনাথপুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

ঘটনার কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, মৃত শরিফুল ইসলাম উচ্চ রক্তশর্করা (হাই সুগার) এবং হৃদরোগজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। ছেলেদের মারামারি থামাতে গিয়ে আচমকা পড়ে যাওয়ায় এবং মানসিক আঘাতে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে গ্রামবাসীদের অনুমান। এই ঘটনার ফলে একদিকে যেমন একটি নতুন সংসার শুরুর আগেই ভেঙে যাওয়ার মুখে, তেমনই একটি সাজানো পরিবারে নেমে এসেছে চরম বিপর্যয়। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে দেগঙ্গা থানার পুলিশ। মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য বারাসাত সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে। আইনশৃঙ্খলার সম্ভাব্য অবনতি এড়াতে পুলিশ এলাকায় নজরদারি বাড়িয়েছে এবং মূল অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *