পরীক্ষায় অনিয়ম বরদাস্ত নয়, সিবিএসই বিতর্কে দায় স্বীকার করে কড়া হুঁশিয়ারি ধর্মেন্দ্র প্রধানের – এবেলা

পরীক্ষায় অনিয়ম বরদাস্ত নয়, সিবিএসই বিতর্কে দায় স্বীকার করে কড়া হুঁশিয়ারি ধর্মেন্দ্র প্রধানের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

সিবিএসই কাণ্ডে দায় স্বীকার শিক্ষামন্ত্রীর, কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি

সিবিএসই-এর অন-স্ক্রিন মার্কিং বা ওএসএম ব্যবস্থা নিয়ে সৃষ্টি হওয়া সাম্প্রতিক বিতর্ক ও শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির দায় স্বীকার করে নিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ ওঠার পর সরকারিভাবে প্রথমবারের মতো এমন কড়া অবস্থান নিলেন তিনি। শিক্ষামন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তদন্তে কোনো প্রকার কারচুপির প্রমাণ মিললে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কাউকেই রেয়াত করা হবে না।

ডিজিটাল মূল্যায়ন নিয়ে বিতর্ক

সিবিএসই-এর এই ডিজিটাল মূল্যায়ন পদ্ধতিকে বিশ্বমানের ও শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক বলে দাবি করলেও, মাঠপর্যায়ে এর প্রয়োগ নিয়ে বিপুল ক্ষোভ দানা বেঁধেছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, উত্তরপত্রগুলো যথাযথভাবে স্ক্যান করা হয়নি, যার ফলে অনেক পাতা ঝাপসা বা অস্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। এছাড়া অনেক ক্ষেত্রে উত্তর মূল্যায়ন না করা, পোর্টাল ক্র্যাশ এবং পুনঃমূল্যায়নের ফি জমা দিতে গিয়ে প্রযুক্তিগত জটিলতার কারণে হাজার হাজার শিক্ষার্থী চরম মানসিক চাপে পড়েছেন। মন্ত্রী জানিয়েছেন, ১৭ লাখ শিক্ষার্থীর ৯৮ লাখ উত্তরপত্রের প্রায় ৪০ কোটি পৃষ্ঠা ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষিত রয়েছে। এত বড় মাপের ডিজিটাল কর্মকাণ্ডে কারিগরি ত্রুটি ও স্বচ্ছতা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তা এখন জাতীয় পর্যায়ে আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রাজনৈতিক চাপ ও ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ

এই বিতর্ক নিয়ে বিরোধী দলগুলোর তীব্র আক্রমণের মুখে পড়েছেন কেন্দ্রীয় সরকার। রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী নেতারা এই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে জবাবদিহিতা দাবি করেছেন। জবাবে শিক্ষামন্ত্রী সরকারি নিয়মের সাফাই গাইলেও রাজনৈতিক বিরোধীদের বিরুদ্ধে ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’র অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত করার পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন। তবে দিনশেষে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরীক্ষার ফলাফলের ওপর ভিত্তি করেই শিক্ষার্থীদের পরবর্তী শিক্ষাজীবন নির্ধারিত হয়। তাই এই ধরণের প্রযুক্তিগত গোলযোগ কেবল মানসিক চাপের সৃষ্টি করে না, বরং দেশের সর্বোচ্চ শিক্ষা বোর্ডের ওপর শিক্ষার্থীদের আস্থাকেও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দেয়। আপাতত সিবিএসই আবেদনের সময়সীমা বাড়িয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *