নিজের গড়েই ‘চোর’ স্লোগান, ডিম ছুড়ে নজিরবিহীন হেনস্থা হেভিওয়েট সাংসদ সৌগত রায়কে! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে কয়েক দশক ধরে অন্যতম এক হেভিওয়েট ব্যক্তিত্ব দমদমের তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়। নিজের পাণ্ডিত্য এবং সংসদীয় অভিজ্ঞতার কারণে রাজনৈতিক মহলে দলমত নির্বিশেষে সমাদৃত এই বর্ষীয়ান নেতা সাধারণত যে কোনও প্রকাশ্য সভায় সমীহ আদায় করে নিতেই অভ্যস্ত। কিন্তু উত্তর ২৪ পরগনার নিমতা থানার বাইরে রাজনীতির এক সম্পূর্ণ ভিন্ন ও নজিরবিহীন রূপ প্রত্যক্ষ করল রাজ্যবাসী। নিজের চেনা নির্বাচনী এলাকাতেই কার্যত চরম জনরোষ এবং হেনস্থার মুখে পড়তে হলো এই প্রবীণ সংসদ সদস্যকে।
বৃহস্পতিবার নিমতা থানায় একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে স্মারকলিপি বা ডেপুটেশন জমা দিতে গিয়েছিলেন সাংসদ সৌগত রায়। থানায় তাঁর কর্মসূচি অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয়েছিল। কিন্তু আসল নাটকীয়তার সূত্রপাত হয় তিনি যখন থানা চত্বর ছেড়ে নিজের গাড়ির দিকে এগোচ্ছিলেন। সেখানে উপস্থিত জনতার একটি বড় অংশ হঠাৎই সাংসদকে লক্ষ্য করে তীব্র চিৎকার শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যে চারপাশ কেঁপে ওঠে ‘চোর-চোর’ স্লোগানে। পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়ে ওঠে যখন ভিড়ের মধ্য থেকে সৌগত রায়কে লক্ষ্য করে একের পর এক ডিম ছুড়তে শুরু করে উত্তেজিত জনতা। যদিও ডিমগুলি সরাসরি তাঁর গায়ে লাগেনি, তবে তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে দেদার ডিম ছোড়া হয়। নিজের খাসতালুকে একজন প্রবীণ সাংসদকে এভাবে অপমান করার ঘটনা সাম্প্রতিক অতীতে বেশ বিরল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহল।
তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর ও চক্রান্তের অভিযোগ
ঘটনার আকস্মিকতা কাটিয়ে এই নোংরা আক্রমণের পেছনে সরাসরি প্রধান বিরোধী শিবিরের হাত দেখছেন তৃণমূল সাংসদ। সৌগত রায়ের দাবি, এটি সাধারণ মানুষের ক্ষোভ নয়। বিজেপির কর্মীরা আগে থেকেই পরিকল্পিতভাবে জমায়েত করে তাঁর ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য এই নোংরা চক্রান্ত ঘটিয়েছে এবং ডিম ছুড়েছে। অন্যদিকে তৃণমূলের তোলা সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ঝেড়ে ফেলে দিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের পাল্টা দাবি, এই ঘটনার সঙ্গে তাঁদের দলের কোনও কর্মী বা সমর্থক যুক্ত নন। এটি আদতে শাসক দলের দুর্নীতি ও অপশাসনের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভেরই এক স্বতঃস্ফূর্ত বহিঃপ্রকাশ।
তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য প্রভাব
নিজের গড়েই একজন হেভিওয়েট ও প্রবীণ নেতার এভাবে জনরোষের মুখে পড়ার ঘটনাটি দমদম লোকসভা কেন্দ্রের রাজনৈতিক পারদ এক ধাক্কায় অনেকটাই চড়িয়ে দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নজিরবিহীন ঘটনাটি আগামী দিনে ওই এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি ও সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা সামগ্রিকভাবে স্থানীয় রাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে।
