অভিষেকের ওপর হামলার ঘটনায় উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি, ‘জনরোষ’ বনাম ‘গণতন্ত্রের শিক্ষা’ নিয়ে চরমে তরজা – এবেলা
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/05/03/abhishek-banerjee-2026-05-03-07-59-11.jpg?ssl=1)
এবেলা ডেস্কঃ
সোনারপুরে তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কম্যান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর নজিরবিহীন হামলার ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে তুমুল তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। গত শনিবারের এই হাইভোল্টেজ ঘটনায় সাংসদের জামা ছিঁড়ে দেওয়া থেকে শুরু করে ডিম ও জুতো বৃষ্টির মতো নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যা নিয়ে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর। তৃণমূল কংগ্রেস এই ঘটনাকে পূর্বপরিকল্পিত চক্রান্ত বলে দাবি করলেও, বিরোধী দলগুলো একে সাধারণ মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই দেখছে।
বিজেপির জনরোষের তত্ত্ব ও সংযমের দাবি
এই ঘটনাকে সরাসরি ‘জনরোষ’ বলে অভিহিত করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তবে এই হামলায় তাঁর দলের কোনো ভূমিকা নেই বলে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন। শমীকের দাবি, তৃণমূলের দীর্ঘদিনের অত্যাচারের বিপরীতে বিজেপি কর্মীরা চরম সংযম দেখিয়েছেন বলেই আজ তৃণমূল অক্ষত রয়েছে। সোনারপুরে ঘটনার সময় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি তিনি অতীতে জে পি নাড্ডা ও শুভেন্দু অধিকারীর ওপর হওয়া হামলার প্রসঙ্গও মনে করিয়ে দেন। রাজ্য সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তৃণমূল নতুন করে ক্ষমতায় এলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত, যদিও যেকোনো ধরনের হিংসাই অকাম্য বলে তিনি মন্তব্য করেন।
পুরনো হুঙ্কারের পাল্টা দিল সিপিএম
অন্যদিকে, এই ঘটনা নিয়ে তৃণমূল নেতৃত্বকে তীব্র আক্রমণ করেছেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। অভিষেকের পুরনো বক্তব্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শত শত পুলিশের ঘেরাটোপে দাঁড়িয়ে হুঙ্কার দেওয়া যেমন গণতন্ত্রের ভাষা নয়, তেমনই এই ধরনের হামলাও কাম্য নয়। একই সঙ্গে এই ঘটনার নেপথ্যে কোনো রাজনৈতিক কৌশল রয়েছে কি না, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তিনি। সেলিমের মতে, বিজেপি ও আরএসএস নানা কৌশলে তৃণমূলকে প্রচারের আলোয় টিকিয়ে রাখতে চাইছে, যা এই ঘটনার অন্যতম কারণ হতে পারে।
একদিকে বিজেপির ‘জনরোষ’-এর পাল্টা যুক্তি আর অন্যদিকে বামেদের ‘গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির’ খোঁচা, সব মিলিয়ে সোনারপুরের এই ধুন্ধুমার কাণ্ডকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আগামী দিনে আরও জটিল হয়ে ওঠার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
