স্ত্রী-শাশুড়ির অত্যাচারে অতিষ্ঠ! শেষমেশ স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন করলেন ব্যক্তি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
গার্হস্থ্য হিংসার শিকার শুধু নারীরাই নন, পুরুষরাও যে চরম মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের মুখোমুখি হতে পারেন, তার এক চরম দৃষ্টান্ত সামনে এলো গুজরাটে। স্ত্রী ও শাশুড়ির লাগাতার অত্যাচার এবং হেনস্তা সহ্য করতে না পেরে এবার সরাসরি জেলা প্রশাসনের কাছে স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন জানিয়েছেন সুরাটের বাসিন্দা বাবুভাই প্যাটেল। সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক সম্প্রতি এক রোগীকে নিষ্কৃতিমৃত্যুর অনুমতি দেওয়ার ঘটনার পরই, নিজের দুর্বিষহ জীবন থেকে মুক্তি পেতে সুরাটের জেলাশাসকের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি।
অভিযোগের তির পরিবার ও পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার দিকে
বাবুভাই প্যাটেলের এটি চতুর্থ বিয়ে। তাঁর অভিযোগ, স্ত্রী মণিকা চৌহান, শাশুড়ি তারাবেন এবং শ্যালক দীপক মিলে দীর্ঘদিন ধরে তাঁর ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালাচ্ছেন। শুধু তাই নয়, তাঁর প্রথম পক্ষের ১২ বছরের পুত্র সন্তানকে শ্বাসরোধ করে খুনের চেষ্টা করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। এই বিষয়ে জেলাশাসকের নির্দেশে তিনি পুলিশের দ্বারস্থ হলেও কোনো সুরাহা হয়নি। বাবুভাইয়ের অভিযোগ, তিনি পুরুষ হওয়ার কারণেই পুলিশ তাঁর খুনের চেষ্টার অভিযোগকে গুরুত্ব দেয়নি এবং স্ত্রীর বিরুদ্ধে কোনো এফআইআর দায়ের করেনি। লিঙ্গ বৈষম্যের কারণে আইনি সাহায্য না পাওয়া তাঁর মানসিক বিপর্যয়কে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
পাল্টা মামলা ও আইনি জটিলতার প্রভাব
স্থানীয় পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দম্পতির মধ্যকার বিবাদ মেটানোর একাধিক চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি। পরবর্তীতে স্ত্রী মণিকা বাপের বাড়ি চলে যান এবং বাবুভাইয়ের বিরুদ্ধে উল্টো গার্হস্থ্য হিংসা, বিবাহবিচ্ছেদ ও খোরপোশের মামলা দায়ের করেন। একদিকে স্ত্রীর দায়ের করা মামলার চাপ, অন্যদিকে নিজের সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এবং প্রশাসনের অসহযোগিতা—সব মিলিয়ে চরম অসহায় বোধ করছেন এই ব্যক্তি। এই ঘটনার ফলে পুরুষ নির্যাতন এবং পুরুষদের আইনি সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে সামাজিক ও আইনি মহলে বিতর্ক তৈরি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। আইনি জটিলতা ও সামাজিক অপবাদের ভয়ে অনেক পুরুষই মুখ খোলেন না, যা পরবর্তীতে এই ধরণের চরম সিদ্ধান্তের দিকে তাঁদের ঠেলে দেয়।
