এক সপ্তাহ বিদ্যুৎহীন গ্রামে ধৈর্যের বাঁধ ভাঙল বাসিন্দাদের, বালুরঘাটে জাতীয় সড়ক অবরোধে চরম দুর্ভোগ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
টানা সাত দিন ধরে সম্পূর্ণ অন্ধকারে ডুবে রয়েছে গোটা গ্রাম। প্রবল ঝড়বৃষ্টির তাণ্ডবে একের পর এক বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়া এবং তার ছিঁড়ে যাওয়ার পাশাপাশি বিকল হয়ে পড়েছে গ্রামের প্রধান ট্রান্সফরমারটি। তীব্র গরমে দিনের পর দিন চরম ভোগান্তি সহ্য করার পর অবশেষে ধৈর্যের বাঁধ ভাঙল গ্রামবাসীদের। বিদ্যুৎ দপ্তরের উদাসীনতার বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়ে শনিবার দুপুরে দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট ব্লকের অমৃতখণ্ড গ্রাম পঞ্চায়েতের কামারপাড়া এলাকার বাসিন্দারা বাঁশ ফেলে ৫১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে তুমুল বিক্ষোভে শামিল হন।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘ এক সপ্তাহ ধরে বিদ্যুৎহীন অবস্থায় দিন কাটলেও প্রশাসন বা বিদ্যুৎ দপ্তরের কোনো হেলদোল ছিল না। বারবার দপ্তরে গিয়ে তদ্বির করা সত্ত্বেও মেলেনি কোনো সুরাহা। এই তীব্র দাবদাহের মধ্যে বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবন কার্যত অচল হয়ে পড়েছিল। আর সেই পুঞ্জীভূত ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটে শনিবারের এই পথ অবরোধে।
স্তব্ধ বালুরঘাট-হিলি রুট, বন্ধ পাওয়ার স্টেশনের কাজ
ব্যস্ততম ৫১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় বালুরঘাট-হিলি রুটে সম্পূর্ণ যান চলাচল স্তব্ধ হয়ে যায়। রাস্তার দু’পাশে সার দিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে একের পর এক যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী ট্রাক। ফলে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং প্রচণ্ড গরমে পথচলতি সাধারণ মানুষকে চরম নাকাল হতে হয়। শুধু তাই নয়, এই আচমকা বিক্ষোভ ও অবরোধের জেরে বালি ও পাথরের জোগান আটকে যাওয়ায় সার্কিট বেঞ্চের পাওয়ার স্টেশন নির্মাণের কাজও সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে পড়ে।
প্রশাসনের আশ্বাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ পুনর্বহাল
জাতীয় সড়ক অবরোধের খবর পেয়েই তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকরা। তাঁরা ক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীদের শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং বিদ্যুৎ দপ্তরের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেন। শেষমেশ প্রশাসনের কাছ থেকে দ্রুত পদক্ষেপের লিখিত আশ্বাস পেয়ে প্রায় আধ ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নেন গ্রামবাসীরা।
অবরোধ প্রত্যাহারের পর অবশ্য আর সময় নষ্ট করেনি প্রশাসন। পুলিশ ও বিদ্যুৎ দপ্তরের কর্মীরা যুদ্ধকালীন তৎপরতায় এলাকায় নতুন ট্রান্সফরমার বসানো এবং তার মেরামতের কাজ শুরু করেন। জেলা বিদ্যুৎ দফতরের রিজ়িওনাল ম্যানেজার সৌভিক সরকার জানিয়েছেন, বিকল ট্রান্সফরমারটি দ্রুত বদলে দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে ওই এলাকায় বিদ্যুৎ পরিষেবা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। প্রশাসনের তৎপরতায় দীর্ঘ এক সপ্তাহের অন্ধকারের অবসান ঘটায় স্বস্তিতে কামারপাড়ার বাসিন্দারা।
