বিদায় নিচ্ছে কাগজের টাকা, ছেঁড়া-ফাটার ঝক্কি কমাতে এবার কি প্লাস্টিকের নোট আনছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পকেট বা মানিব্যাগে রাখা কাগজের কচকচে নোটের দিন কি এবার ফুরিয়ে আসছে? বাজারে কি এবার স্থায়ী জায়গা করে নিতে চলেছে প্লাস্টিক বা পলিমারের নোট? সাম্প্রতিক সময়ে এই জল্পনা তীব্র হয়েছে অর্থনৈতিক মহলে। দেশে ডিজিটাল লেনদেনের ব্যাপক প্রসার ঘটলেও বাজারে কাগজের নোটের চাহিদা কমেনি, বরং উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ কাগজের নোট ছাপানোর খরচ এবং ছেঁড়া-ফাটা নোটের পাহাড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (আরবিআই)। ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্লাস্টিকের নোট বাজারে ছাড়ার পুরনো পরিকল্পনাটি নতুন করে বিবেচনা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। আরবিআই সূত্রে জানা গেছে, পটনা এবং মুম্বইয়ে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক দুটি বোর্ড মিটিংয়ে এই পলিমার ব্যাঙ্কনোট চালুর বিষয়ে নীতিনির্ধারকদের মধ্যে জোরদার আলোচনা হয়েছে।
খরচ নিয়ন্ত্রণ ও দীর্ঘস্থায়িত্বের খোঁজ
রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সাম্প্রতিক বার্ষিক রিপোর্টের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে কেবল কাগজের নোট ছাপাতেই খরচ হয়েছে ৬ হাজার ৩৭২ কোটি টাকা, যা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় অনেকটাই বেশি। এর পাশাপাশি প্রতি বছর ব্যাঙ্কগুলোতে জমা পড়ছে বিপুল পরিমাণ ছেঁড়া, ফাটা ও নোংরা নোট। গত অর্থবর্ষেই প্রায় ২ হাজার ৩৮০ কোটি নষ্ট হয়ে যাওয়া নোট বাজার থেকে তুলে নিয়ে ধ্বংস করতে হয়েছে আরবিআই-কে, যার মধ্যে ৫০০ এবং ১০০ টাকার নোটের সংখ্যাই ছিল সর্বাধিক। এই বিপুল অপচয় ও খরচ কমানো এবং নোটের আয়ু বাড়ানোর তাগিদেই বিকল্প হিসেবে প্লাস্টিক নোটের কথা ভাবা হচ্ছে। প্লাস্টিক বা পলিমার নোটের উৎপাদন খরচ কাগজের তুলনায় কম এবং এগুলো সহজে ছেঁড়ে বা নষ্ট হয় না।
নগদের রেকর্ড চাহিদা ও আগামীর প্রভাব
ইউপিআই এবং অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমের রমরমা সত্ত্বেও ভারতীয় অর্থনীতিতে নগদের প্রয়োজনীয়তা কমেনি। চলতি ২০২৬ সালের মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাজারে এই মুহূর্তে রেকর্ড ৪২.৮৬ লক্ষ কোটি টাকা নগদ অর্থ আবর্তিত হচ্ছে। বিশেষ করে ১০ ও ২০ টাকার মতো ছোট অঙ্কের নোটের চাহিদা তুঙ্গে থাকলেও সেই তুলনায় জোগান কম। এই পরিস্থিতিতে প্লাস্টিকের নোট চালু হলে একদিকে যেমন সরকারের মুদ্রণ খরচ এক ধাক্কায় অনেকটা কমবে, তেমনই সাধারণ মানুষকে ছেঁড়া-ফাটা নোটের বিড়ম্বনা থেকে মুক্তি দেবে।
পূর্বে ২০১২ সালে দেশের পাঁচটি শহরে পরীক্ষামূলকভাবে ১০ টাকার প্লাস্টিক নোট নামানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও তৎকালীন এটিএম প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতার কারণে তা সফল হয়নি। তবে বর্তমান উন্নত প্রযুক্তির যুগে সেই বাধা কেটে গেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, কানাডাসহ বিশ্বের প্রায় ৬০টি দেশে ইতিমধ্যেই সফলভাবে পলিমার নোটের ব্যবহার চলছে। এবার ভারতও সেই পথে হাঁটলে তা দেশের সামগ্রিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় এক বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।
