পরিচালক অনীক দত্তের প্রয়াণে টলিপাড়ায় তীব্র ক্ষোভ, একে রাজনৈতিক হত্যা বলে দাবি করলেন অভিনেতা জিতু কমল – এবেলা

পরিচালক অনীক দত্তের প্রয়াণে টলিপাড়ায় তীব্র ক্ষোভ, একে রাজনৈতিক হত্যা বলে দাবি করলেন অভিনেতা জিতু কমল – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বিশিষ্ট চলচ্চিত্র পরিচালক অনীক দত্তের আকস্মিক ও অস্বাভাবিক প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে টলিউডে। প্রাক্তন স্ত্রীর বাড়ির ছাদ থেকে ঝাঁপ দিয়ে তাঁর আত্মহননের ঘটনাটি মেনে নিতে পারছেন না বিনোদন জগতের অনেকেই। এই মৃত্যুর জেরে বিনোদন জগতের অন্দরে লুকিয়ে থাকা চাপা ক্ষোভ ও টালমাটাল রাজনৈতিক সমীকরণ এবার প্রকাশ্যে চলে এসেছে। পরিচালকের প্রয়াণে তীব্র ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে তাঁরই ছবির প্রধান অভিনেতা জিতু কমল একে সরাসরি ‘রাজনৈতিক হত্যা’ বলে অভিহিত করেছেন।

শুক্রবার কেওড়াতলা মহাশ্মশানে পরিচালকের শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন জিতু কমল। অনীক দত্ত পরিচালিত ‘অপরাজিত’ চলচ্চিত্রে সত্যজিৎ রায়ের ভূমিকায় অভিনয় করে বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন জিতু। প্রিয় পরিচালকের এমন পরিণতিতে ভেঙে পড়ে তিনি তৎকালীন রাজনৈতিক ব্যবস্থার দিকে আঙুল তুলেছেন।

মানসিক নির্যাতন ও প্রতিহিংসার রাজনীতির অভিযোগ

সংবাদমাধ্যমকে জিতু কমল জানান, এটি কেবল একজন মানুষের মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে চলে যাওয়া নয়, এটি আসলে একটি ‘রাজনৈতিক হত্যা’। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকার অনীক দত্তকে মানসিকভাবে পঙ্গু করে দিয়েছিল। নন্দনে তাঁর ছবি চলতে না দেওয়া এবং ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে এমন আবহ তৈরি করা হয়েছিল যাতে কোনো প্রযোজক ওঁর সাথে কাজ করতে না চান। ইন্ডাস্ট্রির একাংশ তৎকালীন সরকারকে খুশি করতে পরিচালকের বিরোধিতা করেছিলেন বলেও তিনি দাবি করেন।

জিতুর মতে, ধারাবাহিক এই মানসিক অত্যাচারের কারণেই পরিচালক চরম পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন। টলিউডে এই ধরণের নোংরা প্রতিহিংসার রাজনীতি বন্ধ করার জন্য তিনি রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং অগ্নীমিত্রা পালের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন, যাতে অনীক দত্তের আটকে যাওয়া ছবি অন্তত একদিনের জন্যও নন্দনে প্রদর্শন করা হয়।

টলিউডে শোকের আবহ ও ভবিষ্যতের শূন্যতা

বিজ্ঞাপন জগৎ থেকে চলচ্চিত্রে আসা অনীক দত্ত ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’, ‘আশ্চর্য প্রদীপ’, ‘ভবিষ্যতের ভূত’, ‘বরুণবাবুর বন্ধু’ এবং ‘যত কাণ্ড কলকাতায়’-এর মতো প্রশংসিত ছবি উপহার দিয়েছেন। টলিপাড়া সূত্রে খবর, মৃত্যুর আগে তিনি ‘অপরাজিত ২’ এবং সঙ্গীতশিল্পী সলিল চৌধুরীর জীবনচিত্র নির্মাণের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তাঁর এই অকাল প্রয়াণে সৃজিত মুখোপাধ্যায়, আবির চট্টোপাধ্যায়, কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়, শ্রীলেখা মিত্র সহ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মহম্মদ সেলিম, সৃজন ভট্টাচার্য ও দীপ্সিতা ধর গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

তদন্তকারীদের ধারণা, পেশাগত জীবনে ক্রমাগত বাধা এবং মানসিক অবসাদই হয়তো পরিচালককে এই চরম সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দিয়েছে। তবে তাঁর মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো কারণ বা প্ররোচনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এই ঘটনার ফলে টলিউডের অভ্যন্তরীণ কাজের পরিবেশ এবং সৃজনশীল স্বাধীনতার ওপর রাজনৈতিক প্রভাবের বিষয়টি আবারও বড়সড় বিতর্কের জন্ম দিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *