সই কাণ্ড ঘিরে বিধানসভায় জোর বিড়ম্বনায় শাসকদল তৃণমূল, বিধায়কদের ঘরের কোন্দলে স্পষ্ট ফাটলের ইঙ্গিত! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বিধানসভার বিরোধী দলনেতা, উপদলনেতা এবং মুখ্যসচেতক নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এক নজিরবিহীন আইনি ও রাজনৈতিক জটিলতার মুখে পড়েছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। প্রস্তাবপত্রে বিধায়কদের স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। কার সই কে করেছে— তা নিয়ে খোদ দলের অন্দরেই শুরু হয়েছে তীব্র টানাপোড়েন, যা তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ ফাটলকে আরও একবার প্রকাশ্যে এনে দিয়েছে। বিধানসভার পক্ষ থেকে হেয়ার স্ট্রিট থানায় অভিযোগ দায়েরের পর এই ঘটনার তদন্তভার নিয়েছে সিআইডি।
মধ্যরাতে সিআইডির হানা ও বিধায়কদের বয়ান
তদন্তে নেমে সিআইডি বৃহস্পতিবার রাত থেকেই সক্রিয় হয়ে ওঠে। দলের একাধিক প্রবীণ ও প্রভাবশালী বিধায়কের বাড়িতে পৌঁছে যান তদন্তকারীরা। চৌরঙ্গীর বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, ডোমজুড়ের তাপস মাইতি এবং ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক বাহারুল ইসলামের বাড়িতে গিয়ে সই যাচাইয়ের কাজ শুরু করে সিআইডি টিম। শুক্রবার সকালে বোলপুরের বিধায়ক চন্দ্রনাথ সিনহার বাড়িতেও হানা দেন সিআইডি আধিকারিকরা। ভিডিও রেকর্ডিংয়ের মাধ্যমে তাঁর সইয়ের নমুনা সংগ্রহ করা হয়।
তদন্তে নেমে সিআইডি জানতে পেরেছে, বিধায়ক চন্দ্রনাথ সিনহা বিধানসভায় শপথ গ্রহণের দিন বাংলায় স্বাক্ষর করলেও বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের সমর্থনপত্রে ইংরেজিতে সই রয়েছে, যা তীব্র সন্দেহের জন্ম দিয়েছে। অন্যদিকে, বিধায়ক তাপস মাইতি সইটি নিজের বলে দাবি করলেও ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক বাহারুল ইসলাম স্পষ্ট জানিয়েছেন যে সমর্থনপত্রের সইটি তাঁর নয়। ঘটনার দিন তিনি একটি রাজনৈতিক হিংসার কারণে বাড়িতেই ছিলেন এবং কোনও মিটিংয়ে যোগ দেননি।
ভেতরের চোরাস্রোত ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব
বাহারুল ইসলামের এই বিস্ফোরক স্বীকারোক্তির পর দলের অস্বস্তি চরমে পৌঁছেছে। প্রবীণ তৃণমূল নেতা তথা বালিগঞ্জের বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ও বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, দল কোনও বেআইনি কাজ সমর্থন করে না এবং কাউকে জোর করে সই করানো হয়নি। তবে বাহারুল যে ওই সইটি তাঁর নয় বলে দাবি করেছেন, তাও তিনি স্বীকার করে নেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সই বিতর্ক শুধুমাত্র নিয়মের জটিলতা নয়, বরং এর পেছনে গভীর দলীয় কোন্দল ও চোরাস্রোত কাজ করছে। প্রস্তাবপত্রে বিধায়কের অজান্তে সই হয়ে যাওয়ার ঘটনা দলের সমন্বয়হীনতা ও অভ্যন্তরীণ অবিশ্বাসের পরিবেশকে স্পষ্ট করে। সিআইডি তদন্তের জল যত দূর গড়াবে, বিধানসভার অলিন্দে শাসকদলের আইনি জটিলতা ও অস্বস্তি ততটাই বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
