ক্ষমতা বদলালেও দাপট অটুট, বাংলার ক্রীড়ামহলে এখনও ‘চেয়ার’ আঁকড়ে মমতার পরিবার ও তৃণমূল নেতারা – এবেলা
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/04/21/mamata-banerjee-2026-04-21-16-50-49.jpg?ssl=1)
এবেলা ডেস্কঃ
দীর্ঘ ১৫ বছর পর বাংলায় ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটেছে, মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ার থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নতুন সরকার গঠনের পর রাজ্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রের শীর্ষ পদে রদবদল হলেও ব্যতিক্রমী চিত্র দেখা যাচ্ছে বাংলার ক্রীড়ামহলে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরেও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারের সদস্য এবং তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা এখনও বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠনের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদ আঁকড়ে বসে রয়েছেন, যা নিয়ে রাজ্য রাজনীতি ও ক্রীড়ামহলে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে।
ক্রীড়াবিশ্বে বাবুন ও অজিতের একচ্ছত্র দাপট
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুই ভাই স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায় (বাবুন) এবং অজিত বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও ক্রীড়া প্রশাসনের একাধিক শীর্ষ পদ অলঙ্কৃত করে রয়েছেন। স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায় একাই সাতটি গুরুত্বপূর্ণ সংগঠনের দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি বেঙ্গল স্টেট টেবল টেনিস অ্যাসোসিয়েশন, পশ্চিমবঙ্গ হ্যান্ডবল সংস্থা, বডি বিল্ডিং অ্যান্ড ফিজিকস অ্যাসোসিয়েশন এবং ক্যালকাটা স্পোর্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি পদে আসীন। এর পাশাপাশি তিনি পশ্চিমবঙ্গ বক্সিং অ্যাসোসিয়েশন ও অ্যামেচার কবাডির সচিব এবং ক্যারাটে অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গলের মুখ্য উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন। অন্যদিকে, আর এক ভাই অজিত বন্দ্যোপাধ্যায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন, যার মধ্যে আইএফএ-র সভাপতি পদ এবং বেঙ্গল অলিম্পিক সংস্থার মুখ্য উপদেষ্টার পদ অন্যতম। এছাড়া তিনি পশ্চিমবঙ্গ স্টেট ওয়েটলিফটিং অ্যাসোসিয়েশনের চিফ প্যাট্রন হিসেবেও যুক্ত আছেন।
শীর্ষ পদে প্রাক্তন মন্ত্রী ও তৃণমূল নেতারা
শুধুমাত্র প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারই নয়, তৃণমূলের একাধিক প্রাক্তন মন্ত্রী এবং প্রভাবশালী নেতা এখনও বিভিন্ন খেলাধুলার নিয়ামক সংস্থার শীর্ষে রয়েছেন। ধৃত প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসু হকি বেঙ্গল এবং পশ্চিমবঙ্গ জুডো সংস্থার সভাপতি পদে বহাল আছেন। প্রাক্তন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম সামলাচ্ছেন ভলিবল অ্যাসোসিয়েশনের রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব। কলকাতার প্রাক্তন বিধায়ক দেবাশিস কুমার বেঙ্গল অ্যামেচার সুইমিং অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এবং প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভাই স্বরূপ বিশ্বাস আইএফএ-র ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে রয়েছেন।
কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
রাজনৈতিক মহলের মতে, বিগত দেড় দশকে ক্রীড়া সংগঠনগুলোর স্বায়ত্তশাসনের সুযোগ নিয়ে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে এই পদগুলো দখল করা হয়েছিল, যা ক্ষমতা হারানোর পরও আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে রাতারাতি পরিবর্তন করা সম্ভব হয়নি। এই একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণের ফলে বাংলার ক্রীড়া প্রশাসনে স্থবিরতা আসতে পারে এবং নতুন প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদ ও নিরপেক্ষ ক্রীড়া সংগঠকদের উঠে আসার পথ রুদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রাক্তন শাসকদলের এই আধিপত্যকে ঘিরে বিরোধীরা ইতিমধ্যেই সরব হয়েছেন, যার প্রভাব আগামী দিনে রাজ্যের সামগ্রিক ক্রীড়া পরিকাঠামো এবং নতুন সরকারের ক্রীড়ানীতির ওপর পড়তে বাধ্য।
