রাতারাতি গেরুয়া সাজে হাজার হাজার তৃণমূল কর্মী, ‘গিরগিটি’ রুখতে কড়া পদক্ষেপ এবিভিপি ও বিএমএসের – এবেলা

রাতারাতি গেরুয়া সাজে হাজার হাজার তৃণমূল কর্মী, ‘গিরগিটি’ রুখতে কড়া পদক্ষেপ এবিভিপি ও বিএমএসের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর থেকে এক অভূতপূর্ব রাজনৈতিক পটপরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রাজ্যে ক্ষমতার হাতবদলের পরেই দলবদলের এক নতুন হিড়িক শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। তবে এবার সরাসরি মূল দলে যোগ দেওয়ার চেয়েও রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি) এবং শ্রমিক সংগঠন ভারতীয় মজদুর সংঘের (বিএমএস) স্বঘোষিত কর্মী হয়ে ওঠার এক প্রবণতা দেখা দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের হাজার হাজার নেতা-কর্মীর মধ্যে। রাজনৈতিক মহলে এই পরিস্থিতিকে ‘গিরগিটি’র রঙ বদলের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে, যা নিয়ে চরম বিব্রত ও ক্ষুব্ধ সংঘের শীর্ষ নেতৃত্ব।

ভোলবদল সোশাল মিডিয়ায় ও ভুয়ো লেটারহেড বিতর্ক

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ফলপ্রকাশের পর থেকেই তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (টিএমসিপি) অধীনস্থ বহু ছাত্র ইউনিয়ন রাতারাতি তাদের সোশাল মিডিয়া প্রোফাইলের নাম ও পরিচয় বদলে এবিভিপির নাম ব্যবহার করা শুরু করেছে। শুধু তাই নয়, সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতে এবিভিপির ভুয়ো লেটারহেড ব্যবহার করে খোদ রাজ্যপাল আরএন রবির কাছে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও সামনে এসেছে। ইতিমধ্যেই এই ধরনের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ১৭টি অভিযোগ দায়ের করেছে এবিভিপি নেতৃত্ব। অন্যদিকে, তৃণমূলের বহু নিচু তলার কর্মী সরাসরি বিজেপিতে জায়গা না পেয়ে ভারতীয় মজদুর সংঘের নাম ভাঙিয়ে অটো ও টোটো চালকদের মতো ছোট ছোট শ্রমিক সংগঠনগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে।

কড়া অবস্থানে সংঘের নেতৃত্ব ও কারণ-প্রভাব

হঠাৎ গজিয়ে ওঠা এই ‘ভোট-পরবর্তী’ কর্মীদের রুখতে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করছে সংগঠনগুলি। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, এই ধরনের সুবিধাবাদীদের দলে কোনো স্থান দেওয়া হবে না। মূলত নিজেদের অতীত অপকর্ম ঢাকতে এবং নতুন শাসক শিবিরের রোষ থেকে বাঁচতেই তৃণমূলের একাংশ এই আশ্রয়ের খোঁজ করছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহল। বিএমএসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, অতীতে যারা শ্রমিক সংগঠনের নামে দুর্নীতি ও অত্যাচারের সাথে যুক্ত ছিল, তাদের কোনোভাবেই বিএমএসের আদর্শে ঠাঁই দেওয়া হবে না এবং এই ধরনের স্বঘোষিত কর্মীদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছে। ভুয়ো পরিচয় রুখতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সচেতনতামূলক প্রচারের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সরাসরি সাংগঠনিক নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের বার্তা দিয়েছে এবিভিপি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *