১১ প্রাণহানির ক্ষত এখনও শুকোয়নি, তাই আইপিএল জয়ের উচ্ছ্বাসে এবার কড়া লাগাম কেন? – এবেলা

১১ প্রাণহানির ক্ষত এখনও শুকোয়নি, তাই আইপিএল জয়ের উচ্ছ্বাসে এবার কড়া লাগাম কেন? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

টানা দ্বিতীয়বার ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) ট্রফি জয়ের হাতছানি রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর সামনে। বিরাট কোহলিদের চ্যাম্পিয়ন দেখতে পুরো দক্ষিণী শহর জুড়ে যখন উন্মাদনার পারদ তুঙ্গে, ঠিক তখনই নজিরবিহীনভাবে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বেঙ্গালুরু সিটি পুলিশ। গত বছরের একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে রবিবার আইপিএল ফাইনালকে কেন্দ্র করে শহরের নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে একগুচ্ছ কড়া বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে।

রক্তাক্ত অতীতের স্মৃতি এবং প্রশাসনের সতর্কতা

গত বছর রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের বাইরে বিজয় উৎসবের সময় ঘটেছিল এক ভয়াবহ বিপর্যয়। সমর্থকদের উপচে পড়া ভিড়ে পদপিষ্ট হয়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন ১১ জন ভক্ত, এবং আহত হন আরও ৪৭ জন। সেই মর্মান্তিক স্মৃতি এখনও বেঙ্গালুরুবাসীর মনে দগদগে। ওই ঘটনার পর স্টেডিয়ামে ম্যাচ আয়োজন নিয়ে দীর্ঘ আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়েছিল। ফলে, এবার আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে ফাইনাল অনুষ্ঠিত হলেও ঘরের মাঠে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেজন্য আগেভাগেই কোমর বেঁধে নেমেছে বেঙ্গালুরু প্রশাসন।

উৎসবে লাগাম ও কঠোর বিধিনিষেধ

পুলিশি নির্দেশিকা অনুযায়ী, ফাইনাল ম্যাচ শেষ হওয়ার পর শহরের কোনো জনবহুল বা উন্মুক্ত এলাকায় বড় কোনো বিজয় মিছিল বা সেলিব্রেশন করা যাবে না। ট্রাফিক ব্যবস্থার ওপর বিশেষ নজরদারি রাখা হচ্ছে। বাইক র‍্যালি, অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো, বিপজ্জনক স্টান্ট, অযথা হর্ন বাজানো কিংবা রাস্তা অবরোধের মতো কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

একই সঙ্গে গণজমায়েত রুখতে রাস্তার ধারে বা জনবহুল স্থানে নতুন করে কোনো এলইডি স্ক্রিন বা জায়ান্ট স্ক্রিন বসানোর অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি শপিং মল, পাব বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের বাইরে সাধারণ মানুষের দৃশ্যমানতায় ম্যাচ সম্প্রচার করার ওপরেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এছাড়া প্রকাশ্য স্থানে মদ্যপান, বাজি ফাটানো, মারামারি ও উগ্র আচরণ বন্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে পুলিশ।

ভার্চুয়াল জগতেও কড়া নজরদারি

মাঠের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও কড়া নজর রাখছে সাইবার সেল। ম্যাচের ফলাফলকে কেন্দ্র করে কোনো উসকানিমূলক পোস্ট, বিদ্বেষমূলক বার্তা কিংবা গুজব ছড়ানো হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। অন্য দলের সমর্থকদের অপমান বা উসকানি দেওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে পুলিশ প্রশাসন স্পষ্ট করেছে যে, আইপিএল ঘিরে শহরের জনশান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার মূল দায়িত্ব নাগরিকদেরই পালন করতে হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *