ঘুষের অভিযোগে উত্তাল, মহকুমা শাসকের দপ্তরে ঢুকে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটকে চরম হুঁশিয়ারি বিধায়কের! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রামপুরহাট মহকুমা শাসকের দপ্তরে সরকারি আধিকারিককে বিজেপি বিধায়কের ধমক দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তারাপীঠ এলাকার দুই হোটেল ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রশাসনিক কাজের নামে ঘুষ নেওয়া এবং দীর্ঘদিনের হয়রানির অভিযোগকে কেন্দ্র করেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অভিযুক্ত ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট সুশান্ত কুমার মাইতির চেম্বারে ঢুকে বিধায়ক ধ্রুব সাহা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং পরবর্তীতে এমন অভিযোগ এলে জেলে পাঠানোর হুমকিও দেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মহকুমা দপ্তরের ভেতরে সাময়িকভাবে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রশাসনিক কাজকর্মে বিঘ্ন ঘটে।
দুর্নীতির অভিযোগ ও উত্তেজনার সূত্রপাত
ঘটনার মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ। তারাপীঠ এলাকার দুজন হোটেল ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন যে, বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজের জন্য তাঁদের দিনের পর দিন হয়রানি করা হচ্ছিল এবং কাজ করে দেওয়ার নামে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়েছিল। বিধায়ক ধ্রুব সাহার দাবি, শুধু হোটেল ব্যবসায়ীই নন, এলাকার একাধিক পাথর খাদান মালিকের কাছ থেকেও ওই আধিকারিক নিয়মিত ঘুষ নিতেন এবং সাধারণ মানুষকে পরিষেবা না দিয়ে হেনস্থা করতেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই বিধায়ক দলবল নিয়ে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটের দপ্তরে যান। আধিকারিক সুশান্ত কুমার মাইতি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং বিধায়ক তাঁকে কড়া ভাষায় তিরস্কার করেন।
প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক প্রভাব
এই ঘটনার ফলে স্থানীয় প্রশাসনিক মহলে একটি বড়সড় ঝাঁকুনি লেগেছে। প্রকাশ্য দিবালোকে সরকারি দপ্তরে ঢুকে বিধায়কের এই কড়া অবস্থান সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। বিধায়ক ধ্রুব সাহা স্পষ্ট জানিয়েছেন, জনপ্রতিনিধি হিসেবে সাধারণ মানুষের স্বার্থে প্রশাসনের দুর্নীতি ও অসহযোগিতার বিরুদ্ধে কথা বলা তাঁর দায়িত্ব এবং জনপরিষেবা নিশ্চিত করতে এই ধরনের পদক্ষেপ জরুরি ছিল। তবে এই ঘটনার পর রামপুরহাটের প্রশাসনিক মহলে নজরদারি কতটা বাড়ে এবং অভিযুক্ত আধিকারিকের বিরুদ্ধে কোনো বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয় কি না, সেটাই এখন দেখার।
