মূল্যবৃদ্ধির চাপ আসতে পারে সাধারণ মানুষের সংসারে, সতর্ক করল কেন্দ্র – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
মুদ্রাস্ফীতির কালো মেঘ, সাধারণ মানুষের পকেটে টান পড়ার আশঙ্কায় সরকার
দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রক। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের চড়া দাম, টাকার মান পড়ে যাওয়া এবং স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টির পূর্বাভাস আগামী দিনে মূল্যস্ফীতির ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রকের অর্থনৈতিক বিষয়ক দপ্তরের সাম্প্রতিক পর্যালোচনা রিপোর্টে বলা হয়েছে, খুচরো বাজারে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও পাইকারি মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখা দিয়েছে।
উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি ও সাধারণের ভোগান্তি
মূল্যস্ফীতির অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে পণ্য উৎপাদনের খরচ বেড়ে যাওয়া। বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে পাইকারি মূল্য সূচক (WPI) এক বছরের তুলনায় ৮.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা গত সাড়ে তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। জ্বালানির উচ্চমূল্য ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, উৎপাদকরা এই বাড়তি খরচের বোঝা সামলাতে শেষ পর্যন্ত খুচরো বাজারে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিতে পারে, যার ফলে সরাসরি প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের সংসার খরচে।
প্রভাবিত হতে পারে সামগ্রিক অর্থনৈতিক বৃদ্ধি
অর্থ মন্ত্রকের রিপোর্টে হরমুজ প্রণালীর বর্তমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় পেট্রল, ডিজেল ও রান্নার গ্যাসের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে, যা ভারতের আমদানি খরচে বাড়তি চাপ তৈরি করছে। এর পাশাপাশি, বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের চেয়ে কম হলে কৃষি উৎপাদনে ঘাটতি দেখা দিতে পারে, যা খাদ্যপণ্যের দামকে লাগামহীন করে তুলতে পারে। খাদ্যমূল্য বৃদ্ধি পেলে গ্রামীণ চাহিদা হ্রাস পেতে পারে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতিকে শ্লথ করার আশঙ্কা তৈরি করেছে। পরিস্থিতির ওপর নজর রেখে আগামী ৫ জুন রিজার্ভ ব্যাংকের মুদ্রানীতি কমিটির বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
