জাজল এনকেফালাইটিস দমনে নতুন দিশা, রহস্য উন্মোচন করলেন আইআইসিবি গবেষকরা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
জাজল এনকেফালাইটিস ভাইরাস কী ভাবে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে এক কোষ থেকে অন্য কোষে ছড়িয়ে পড়ে, তার গোপন কৌশলের সন্ধান পেলেন যাদবপুরের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ কেমিক্যাল বায়োলজি (আইআইসিবি)-র গবেষকরা। আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানপত্রিকা ‘এম-বায়ো’-তে প্রকাশিত এই গবেষণায় উঠে এসেছে, ভাইরাসটি শরীরের নিজস্ব ক্ষুদ্র পরিবহণ ব্যবস্থা ‘স্মল এক্সট্রাসেলুলার ভেসিকল’ ব্যবহার করে ছদ্মবেশে সংক্রমণ ছড়ায়।
সংক্রমণের অভিনব কৌশল ও ভবিষ্যৎ চিকিৎসা
গবেষণায় দেখা গেছে, জাজল এনকেফালাইটিস ভাইরাস কোষ ভেঙে বাইরে বেরিয়ে আসার পরিবর্তে শরীরের ‘লিপিড ড্রপলেট’ বা চর্বি সঞ্চয়কারী ক্ষুদ্র গঠনটিকে ব্যবহার করে। ভাইরাসটি এই লিপিড ড্রপলেট থেকে তৈরি ভেসিকলের ভেতরে নিজেকে লুকিয়ে রাখে, ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভাইরাসটিকে শনাক্ত করতে ব্যর্থ হয়। গবেষণার নেতৃত্বদানকারী সৌরীশ ঘোষ ও তাঁর দল জানিয়েছেন, ভাইরাসটি অনেক সময় কোষকে জীবিত রেখেই এই পদ্ধতিতে অন্য কোষে ছড়িয়ে পড়ে, যা চিকিৎসার ক্ষেত্রে নতুন পথের সন্ধান দিতে পারে।
বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর প্রায় ৬৮ হাজার মানুষ জাজল এনকেফালাইটিসে আক্রান্ত হন, যার ফলে মৃত্যুঝুঁকি ও স্থায়ী স্নায়বিক জটিলতা দেখা দিতে পারে। বর্তমানে এই ভাইরাসের সুনির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা না থাকায় আক্রান্তদের মূলত উপসর্গভিত্তিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। গবেষকদের মতে, ভবিষ্যতে সরাসরি ভাইরাস ধ্বংস করার পাশাপাশি ভাইরাস যে কোষীয় পরিবহণ ব্যবস্থাকে কাজে লাগাচ্ছে, সেই পথ বন্ধ করেও নতুন প্রতিষেধক বা চিকিৎসা পদ্ধতি গড়ে তোলা সম্ভব। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ল্যাবের সাফল্যের পর মানুষের শরীরে এই গবেষণার প্রয়োগ জাজল এনকেফালাইটিস প্রতিরোধের লড়াইয়ে এক নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।
