চন্দননগরে তৃণমূলের ভরাডুবির পরেই বিস্ফোরক পদত্যাগী মেয়র, আইপ্যাককে নিয়ে তুলকালাম! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে অসন্তোষের পারদ চড়ছিল। সেই আঁচ পৌঁছেছে হুগলির চন্দননগরেও। গত শুক্রবার চন্দননগরের মেয়র পদ থেকে রাম চক্রবর্তী সহ ২৬ জন তৃণমূল কাউন্সিলর ইস্তফা দেওয়ার পর পুরবোর্ড কার্যত ভেঙে পড়েছে। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই প্রাক্তন মেয়র রাম চক্রবর্তী দলের অন্দরের অব্যবস্থা এবং নির্বাচনী পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, দলের কিছু নেতার দম্ভ এবং আইপ্যাকের ওপর অন্ধ বিশ্বাসের কারণেই মানুষ তৃণমূলের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।
আইপ্যাকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ও দলের অন্দরে ক্ষোভ
রাম চক্রবর্তী সরাসরি আইপ্যাকের কাজের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর দাবি, দলের পক্ষ থেকে প্রচুর তথ্য সংগ্রহ করা হলেও, সেই তথ্য দিয়ে আইপ্যাক ঠিক কী করেছে, তা দলের বহু প্রবীণ নেতাই বুঝতে পারেননি। তৃণমূলের অন্দরে আইপ্যাক নিয়ে যে ক্ষোভ জমেছিল, তা আজ নতুন নয়। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে বিবেক গুপ্ত ও কাকলি ঘোষদস্তিদের মতো নেতারাও একই সুরে কথা বলেছেন। দলের অভ্যন্তরীণ তথ্য ফাঁস করা থেকে শুরু করে অস্বচ্ছ কার্যপদ্ধতি—প্রতিটি ক্ষেত্রেই আইপ্যাককে কাঠগড়ায় তুলেছেন তৃণমূলের এই নেতারা। রাম চক্রবর্তীর অভিযোগ, প্রার্থী নির্বাচন এবং মানুষের ক্ষোভ প্রশমনের ক্ষেত্রে আইপ্যাকের ভূমিকা ছিল চরম ব্যর্থ। এমনকি সোশ্যাল মিডিয়ায় দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হওয়ার পেছনেও এই সংস্থার ভুল রণকৌশলকে দায়ী করেছেন তিনি।
নেতৃত্বের ব্যর্থতা ও ভবিষ্যতের সংকট
প্রাক্তন মেয়র কেবল আইপ্যাকের সমালোচনা করেই থেমে থাকেননি, স্থানীয় নেতৃত্বের ব্যর্থতা নিয়েও সরব হয়েছেন। বিশেষ করে প্রাক্তন বিধায়ক ইন্দ্রনীল সেনের কার্যপদ্ধতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি জানিয়েছেন, ভোটের পর চন্দননগরের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বদলে দূরত্ব বজায় রেখেছেন স্থানীয় নেতারা। নেতৃত্বের এই ঔদ্ধত্য এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলার অভাবই তৃণমূলকে সাধারণ মানুষের থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। এই ধরনের অগণতান্ত্রিক ও অস্বচ্ছ কার্যপদ্ধতি যদি চলতে থাকে, তবে দলের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও আদর্শ রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন অভিজ্ঞ রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। দলের ভরাডুবির পর এই বিদ্রোহ তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামোয় বড় ধরনের ভাঙনের সংকেত দিচ্ছে।
