কলকাতার বাইরেও কি এবার মেট্রো, ‘সিটি মেট্রো সার্ভিস’ নিয়ে তৎপর রাজ্য সরকার – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতার গণ্ডি পেরিয়ে এবার পশ্চিমবঙ্গের জেলা স্তরের বড় শহরগুলিতেও পৌঁছে যেতে পারে মেট্রো পরিষেবা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘সিটি মেট্রো সার্ভিস’ পরিকল্পনাকে রাজ্যে বাস্তবায়িত করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার। ২৫ থেকে ৩০ লক্ষ জনসংখ্যা বিশিষ্ট শহরগুলিকে এই প্রকল্পের আওতায় এনে মেট্রো রেলের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের প্রক্রিয়া শুরু করার ইঙ্গিত মিলেছে। রাজ্যের এই উদ্যোগের ফলে আগামী দিনে জেলাভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক বড়সড় বদল আসতে চলেছে।
দিল্লির দরবারে পাঠানো হচ্ছে প্রস্তাব
এই মেগা প্রকল্পকে বাস্তবায়িত করার লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই তৎপরতা শুরু হয়েছে নবান্নে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পলকে এই বিষয়ে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা এবং ডিটেইলড প্রজেক্ট রিপোর্ট বা ডিপিআর (DPR) তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন। নগরোন্নয়ন দফতরের তরফ থেকে তৈরি এই রূপরেখাটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য খুব শীঘ্রই দিল্লিতে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে প্রস্তাব আকারে পাঠানো হবে। কেন্দ্র থেকে প্রয়োজনীয় আর্থিক ও পরিকাঠামো গত সহযোগিতা নিয়ে এই প্রকল্প এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে রাজ্যের।
জেলার জনসংখ্যা ও পরিকাঠামোগত চ্যালেঞ্জ
প্রধানমন্ত্রীর ‘সিটি মেট্রো সার্ভিস’ প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী, যেসব শহরের জনসংখ্যা ২৫ থেকে ৩০ লক্ষের মধ্যে, সেখানেই এই পরিষেবা চালু করা সম্ভব। বর্তমানে উত্তর ২৪ পরগনার বারাসাত এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর পর্যন্ত মেট্রোর সম্প্রসারণের কাজ চলছে। এছাড়া হাওড়া ও হুগলি জেলার বেশ কিছু অংশেও বিপুল জনবসতি রয়েছে। তবে পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার বাইরের জেলাগুলির একক কোনো শহরে ২৫-৩০ লক্ষ জনসংখ্যা থাকা নিয়ে কিছুটা ধোঁয়াশা রয়েছে। ফলে কোন কোন নির্দিষ্ট শহরকে এই প্রকল্পের আওতাভুক্ত করা যাবে, তা ডিপিআর রিপোর্ট তৈরির পরই স্পষ্ট হবে।
নিত্যযাত্রীদের সুবিধায় সম্ভাব্য প্রভাব
জেলার বড় শহরগুলিতে মেট্রো পরিষেবা চালু হলে রাজ্যের সামগ্রিক পরিবহন ব্যবস্থায় যুগান্তকারী প্রভাব পড়বে। প্রতিদিন কাজের তাগিদে বা ব্যবসার প্রয়োজনে লক্ষ লক্ষ মানুষ শহরতলি ও জেলা থেকে ট্রেনে বা বাসে চেপে কলকাতায় আসেন। এই পরিষেবা চালু হলে যাতায়াতের সময় অনেকটাই কমবে এবং লোকাল ট্রেন ও বাসের ওপর অতিরিক্ত চাপ হ্রাস পাবে। একই সঙ্গে জেলা স্তরের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি বৃদ্ধি পাবে এবং সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের পরিকাঠামোগত উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
