আইপিএল ফাইনালের রাতে অনলাইন বেটিং চক্রের পর্দাফাঁস, চাকদহে পুলিশের জালে ৯ জুয়াড়ি – এবেলা

আইপিএল ফাইনালের রাতে অনলাইন বেটিং চক্রের পর্দাফাঁস, চাকদহে পুলিশের জালে ৯ জুয়াড়ি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) মেগা ফাইনালের উত্তেজনাকে পুঁজি করে দেশজুড়ে যখন উন্মাদনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই সক্রিয় হয়ে উঠেছিল অনলাইন বেটিং বা জুয়ার চক্র। তবে পুলিশের তৎপরতায় আইপিএল ফাইনালের রাতেই ভেস্তে গেল সেই বেআইনি কারবার। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে নদিয়ার চাকদহ থানার পুলিশ রবিবার রাতে একটি বাড়িতে আকস্মিক অভিযান চালিয়ে এই চক্রের মূল পান্ডাসহ মোট ৯ জনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে।

উদ্ধার বিপুল গ্যাজেট, তদন্তে পুলিশ

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের কাছ থেকে অপরাধে ব্যবহৃত ১২টি মোবাইল ফোন এবং ১টি ট্যাব উদ্ধার করা হয়েছে। এই আধুনিক ডিভাইসগুলির মাধ্যমেই মূলত বেটিংয়ের ডিজিটাল বোর্ড পরিচালনা করা হচ্ছিল এবং গ্রাহকদের কাছ থেকে বাজি ধরা হচ্ছিল। ধৃতদের পরিচয় মিলেছে আকাশ সরদার, রাজীব সাধুখাঁ, শুভজিৎ সরকার, সুজন পাল, শুভ সরকার, বিশ্বজিৎ দাস, প্রশান্ত সরকার, সুজিত পাল এবং দেবাশিস ঘোষ হিসেবে। এদের সবার বাড়ি নদিয়ার শিমুরালি, কালিবাজার ও রসুল্লাপুর সংলগ্ন এলাকায়। সোমবারই ধৃতদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে কল্যাণী মহকুমা আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ক্রীড়া উন্মাদনার আড়ালে অপরাধের থাবা

রবিবার রাতে আইপিএল ফাইনালে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু ও গুজরাট টাইটান্সের রুদ্ধশ্বাস ম্যাচকে কেন্দ্র করে কোটি কোটি টাকার বাজি ধরার ছক কষেছিল এই চক্রটি। অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, টি-টোয়েন্টির মতো হাই-ভোল্টেজ টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচগুলোতে সাধারণ মানুষের আবেগ ও উত্তেজনাকে কাজে লাগিয়ে রাতারাতি বড় অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়াই ছিল এদের মূল লক্ষ্য। এই ধরনের অনলাইন চক্রগুলি যুবসমাজকে সহজেই আর্থিক প্রলোভনে ফেলে সর্বস্বান্ত করে তোলে।

চাকদহ থানার এই বড়সড় সাফল্য স্থানীয় এলাকায় অবৈধ জুয়ার কারবারে বড় ধাক্কা দেবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এই চক্রের শিকড় আরও কতদূর বিস্তৃত এবং এর পেছনে বড় কোনো আন্তঃরাজ্য বা আন্তর্জাতিক চক্র কাজ করছে কি না, তা জানতে পুলিশ ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *