ক্ষমতার পালাবদলের পর ঝাড়গ্রামে প্রথম বড় ধাক্কা, গ্রেফতার তৃণমূল কাউন্সিলর নবু গোয়ালা! – এবেলা

ক্ষমতার পালাবদলের পর ঝাড়গ্রামে প্রথম বড় ধাক্কা, গ্রেফতার তৃণমূল কাউন্সিলর নবু গোয়ালা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর এই প্রথম ঝাড়গ্রাম জেলায় শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের কোনো প্রথম সারির বড় মাপের নেতা পুলিশি হেফাজতে গেলেন। ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়, হুমকি এবং জোরপূর্বক জমি দখলের গুরুতর অভিযোগে ঝাড়গ্রাম শহর তৃণমূলের প্রাক্তন সভাপতি তথা বর্তমান পুর কাউন্সিলর নবু গোয়ালাকে গ্রেফতার করেছে ঝাড়গ্রাম থানার পুলিশ। বৃহস্পতিবার পুরসভার বোর্ড মিটিংয়ের পর কাউন্সিলরদের লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া ও মারধরের উত্তপ্ত পরিস্থিতির পরই পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। শুক্রবার ঝাড়গ্রাম আদালতে তোলা হলে বিচারক তদন্তের স্বার্থে ধৃতকে ৫ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।

ঘটনার সূত্রপাত চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে, যখন এক ব্যক্তি নবু গোয়ালাসহ মোট আটজনের বিরুদ্ধে থানায় জমি দখল ও টাকা আদায়ের লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্তে অভিযোগকারীর বয়ান, জমি সংক্রান্ত নথি এবং একাধিক ব্যক্তির বক্তব্য খতিয়ে দেখে ঘটনার সত্যতা মেলায় পুলিশ এই পদক্ষেপ নেয়। বাকি সাত অভিযুক্তের খোঁজেও তল্লাশি শুরু হয়েছে। আদালতে যাওয়ার পথে নবু গোয়ালা অবশ্য সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে আইনি লড়াইয়ের বার্তা দিয়েছেন এবং আইনের ওপর ভরসা রাখার কথা জানিয়েছেন।

গ্রেফতারির কারণ ও রাজনৈতিক প্রভাব

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের দাবি, প্রাথমিক তদন্তে নবু গোয়ালার বিরুদ্ধে তোলাবাজি ও জোর করে জমি দখলের চেষ্টার সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ মিলেছে। দীর্ঘদিন ঝাড়গ্রাম শহর তৃণমূলের সাংগঠনিক শীর্ষ পদে থাকা এবং বর্তমানে পুরসভার কাউন্সিলর হওয়ায় তাঁর এই গ্রেফতারি স্থানীয় রাজনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ঘটনা ঝাড়গ্রাম জেলায় শাসকদলের ভাবমূর্তিকে বড়সড় ধাক্কা দিল, যা বিরোধী শিবিরের হাতে নতুন রাজনৈতিক অস্ত্র তুলে দিতে পারে। অন্যদিকে, আইনজীবীদের একটি অংশ মনে করাচ্ছেন যে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে দোষী বলা যায় না এবং এই গ্রেফতারির পেছনে কোনো গভীর রাজনৈতিক সমীকরণ বা ক্ষোভ রয়েছে কি না, তা নিয়েও জেলা রাজনীতিতে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *