অফিসে ঢুকে সহকর্মীদের সামনে তরুণীকে নৃশংস কোপ, মোহালিতে প্রেমে প্রত্যাখ্যানের ভয়ঙ্কর বদলা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পাঞ্জাবের মোহালি শহরে একটি কুরিয়ার সংস্থার অফিসে ঘটে গেল এক হাড়হিম করা হত্যাকাণ্ড। সহকর্মীদের চোখের সামনেই ডিম্পল নামের এক ৩০ বছর বয়সী তরুণীকে ধারাল ছুরি দিয়ে কুপিয়ে খুন করল তার প্রাক্তন প্রেমিক ও সহকর্মী হরজিন্দর সিং মান ওরফে হ্যারি। কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা এবং তরুণীদের সুরক্ষার বিষয়টি এই নৃশংস ঘটনার পর আবারও বড়সড় প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
সম্পর্ক বিচ্ছেদের চরম প্রতিশোধ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মৃতা ডিম্পল পাটিয়ালার বাসিন্দা ছিলেন। ৩৯ বছর বয়সী অভিযুক্ত হ্যারির সঙ্গে একই অফিসে কাজ করার সুবাদে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তবে কিছুদিন আগে ডিম্পল এই সম্পর্ক ভেঙে দেন। বিচ্ছেদ মেনে নিতে না পেরে হ্যারি বারবার সম্পর্ক জোড়া লাগানোর চেষ্টা করলেও তরুণী তাতে সাড়া দেননি। এই প্রত্যাখ্যানের ক্ষোভ থেকেই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অফিসে ঢুকে হ্যারি এই রক্তক্ষয়ী হামলা চালায়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ডিম্পল যখন নিজের ডেস্কে কাজ করছিলেন, তখন হ্যারি নিঃশব্দে পিছন থেকে এসে তাঁর পিঠে ধারাল ছুরি দিয়ে একের পর এক আঘাত করতে থাকে।
সহকর্মীদের অসহায়তা ও সম্ভাব্য সামাজিক প্রভাব
অফিসের অন্য কর্মীরা ডিম্পলকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও হ্যারির আগ্রাসী রূপের সামনে তাঁরা ব্যর্থ হন। উল্টে তাঁদের দিকেও ছুরি নিয়ে তেড়ে যায় অভিযুক্ত। ডিম্পলকে নিশ্চিত মৃত্যুর কোলে ঢেলে দেওয়ার পর হ্যারি নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা করে। বর্তমানে সে পুলিশি হেফাজতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই ঘটনা কর্মক্ষেত্রে নারী নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। পেশাদার পরিবেশেও যে কোনো কর্মী কতটা অরক্ষিত হয়ে পড়তে পারেন, এই হত্যাকাণ্ড তারই এক ভয়ঙ্কর দৃষ্টান্ত। মোহালি পুলিশ ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে এবং কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা গাফিলতি খতিয়ে দেখতে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে।
