টাকা নিয়েও ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ, এবার গ্রেফতারি পরোয়ানার মুখে টলিউড অভিনেতা সোহম! – এবেলা
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/02/19/soham-chakraborty-2026-02-19-11-16-03.webp?ssl=1)
এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যের রাজনৈতিক ও বিনোদন জগতের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের আইনি জটিলতায় জড়ানোর তালিকায় এবার যুক্ত হলো অভিনেতা তথা প্রাক্তন বিধায়ক সোহম চক্রবর্তীর নাম। কোটি টাকার কাছাকাছি এক আর্থিক প্রতারণার মামলায় এই টলি-তারকার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। ভোট-পরবর্তী বদলে যাওয়া রাজনৈতিক সমীকরণের মাঝে এই ঘটনা টলিপাড়া থেকে রাজনৈতিক মহল— সবখানেই তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
আর্থিক লেনদেন ও বিবাদের সূত্রপাত
ঘটনার সূত্রপাত ২০২১ সালে, ‘পাকা দেখা’ চলচ্চিত্র নির্মাণকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ, এই ছবিতে বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে অভিনেতা-রাজনীতিবিদ শাহিদ ইমাম ওরফে শুভমের কাছ থেকে প্রায় ৬৮ লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন সোহম চক্রবর্তী। শাহিদ ইমামের দাবি, ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুসম্পর্কের ভিত্তিতেই তিনি এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ধার দিয়েছিলেন। তবে দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও সেই টাকা আর ফেরত দেওয়া হয়নি। প্রথমে নিজেদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির মীমাংসা করার চেষ্টা করা হলেও কোনো সুরাহা মেলেনি, যার ফলে বাধ্য হয়েই আইনি পদক্ষেপ নেন বিনিয়োগকারী।
থানা থেকে হাইকোর্ট এবং পরোয়ানা জারি
টাকা উদ্ধারে ব্যর্থ হয়ে শাহিদ ইমাম চারু মার্কেট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পাশাপাশি কলকাতা হাইকোর্টেও মামলা করেন। সংশ্লিষ্ট মামলার প্রেক্ষিতেই এবার সোহম চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। এই পরোয়ানা জারির পর সোহমের আইনি অবস্থান কী হবে, তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন নাকি উচ্চতর আদালতের দ্বারস্থ হবেন, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে অভিনেতার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব
রাজ্যের শাসকদলের ঘনিষ্ঠ ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একের পর এক কেন্দ্রীয় ও রাজ্য স্তরের তদন্ত যখন গতি পেয়েছে, ঠিক তখনই সোহমের বিরুদ্ধে এই পরোয়ানা নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এই ঘটনা শুধু টলিউডের সিনেমা অর্থায়নের অস্বচ্ছতাকেই সামনে আনেনি, বরং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের আর্থিক সততা নিয়েও সাধারণ মানুষের মধ্যে নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। মামলাটি এখন সাধারণ আর্থিক বিবাদ হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকে, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো প্রভাবশালীর যোগসূত্র বা বড় কোনো আইনি মোড় বেরিয়ে আসে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
