প্রাইভেট টিউশনে রাশ টানতে কড়া হুঁশিয়ারি, নিয়ম ভাঙলে এবার সরকারি শিক্ষকদের কড়া শাস্তি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
আইন ও নিয়মের তোয়াক্কা না করে সরকারি শিক্ষকদের একাংশের প্রাইভেট টিউশন পড়ানোর প্রবণতা রুখতে এবার চূড়ান্ত কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করল স্কুল শিক্ষা দপ্তর। শিক্ষার অধিকার আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে যারা দীর্ঘদিন ধরে এই কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে রাজ্য জুড়ে বিশেষ নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। স্কুল শিক্ষা দপ্তরের স্পষ্ট বার্তা, সরকারি বা সরকার পোষিত কোনো বিদ্যালয়ের স্থায়ী শিক্ষক কোনোভাবেই গৃহশিক্ষকতা করতে পারবেন না। নিজ স্কুলের বা অন্য কোনো স্কুলের পড়ুয়াদের টিউশন দিলে সংশ্লিষ্ট জেলা স্কুল পরিদর্শক এবং শিক্ষা দপ্তর আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে।
কঠোর পদক্ষেপের নেপথ্য কারণ
২০০৯ সালের শিক্ষার অধিকার আইনের ২৮ নম্বর ধারায় সরকারি শিক্ষকদের প্রাইভেট টিউশন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হলেও, বাস্তবে এই প্রবণতা রোধ করা যায়নি। উপরন্তু, বহু শিক্ষকের বিরুদ্ধে টিউশন না পড়লে ছাত্রছাত্রীদের হুমকি দেওয়া কিংবা পরীক্ষায় কম নম্বর দেওয়ার ভয় দেখানোর মতো গুরুতর অভিযোগও সামনে এসেছে। সম্প্রতি এই বিষয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের পক্ষ থেকে বিজ্ঞপ্তি পাওয়ার পরেই নড়েচড়ে বসেছে রাজ্য সরকার। নতুন নির্দেশিকায় সমস্ত জেলার স্কুল পরিদর্শকদের সাফ জানানো হয়েছে, শিক্ষকদের গৃহশিক্ষকতা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলেই তা খতিয়ে দেখে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও সম্ভাব্য প্রভাব
সরকারের এই কড়া অবস্থানকে সাধুবাদ জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ গৃহশিক্ষক কল্যাণ সমিতি। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তারা এই দাবি জানিয়ে আসছিল। তবে এই নিষেধাজ্ঞা কেবল কাগজ-কলমে সীমাবদ্ধ থাকলে রাজ্যজুড়ে আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছে তারা। অন্যদিকে, শিক্ষানুরাগী ও শিক্ষক সংগঠনগুলোর একাংশের মতে, শুধু নিষেধাজ্ঞা জারি করলেই এই সংস্কৃতির অবসান সম্ভব নয়। এর জন্য স্কুলের সার্বিক পরিকাঠামো উন্নয়ন, বিজ্ঞানভিত্তিক সিলেবাস রূপায়ণ এবং সঠিক ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত বজায় রাখা জরুরি, যাতে শিক্ষার্থীদের স্কুল-শিক্ষার বাইরে অতিরিক্ত গৃহশিক্ষকের ওপর নির্ভর করতে না হয়। শাস্তির ভয়ে শিক্ষকদের এই প্রবণতা কমলে পরোক্ষভাবে তা স্কুল স্তরের পঠনপাঠনের মানোন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
