৫৩০০ বছরের পুরোনো মমি থেকে তৈরি হলো আজকের ব্রেকফাস্ট! অবাক কাণ্ড বিজ্ঞানীদের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক: বরফের নীচে দীর্ঘ ৫৩০০ বছর ধরে ঘুমিয়ে ছিলেন এক রহস্যময় মানুষ— ‘ওটজ়ি দ্য আইসম্যান’। ১৯৯১ সালে আল্পস পর্বতে দুই জার্মান পর্বতারোহী প্রথম তাঁর মমি খুঁজে পান। তারপর থেকেই তাঁকে নিয়ে বিজ্ঞানীদের গবেষণার শেষ নেই। তবে এবার ওটজ়ির শরীর থেকে যা আবিষ্কার হলো, তা এককথায় অবিশ্বাস্য! তাঁর পাকস্থলীর ডিএনএ (DNA) পরীক্ষা করে গবেষকরা তৈরি করে ফেলেছেন আজকের সকালের তাজা ব্রেকফাস্টের পাউরুটি (Sourdough Bread)!
ভাবছেন এও কি সম্ভব? বিজ্ঞানীদের সাম্প্রতিকতম গবেষণা কিন্তু সেই আসাম্ভবকেই সম্ভব করে দেখিয়েছে। ওটজ়ির পাকস্থলী ও অন্ত্রের নমুনা পরীক্ষা করতে গিয়ে গবেষকরা খুঁজে পেয়েছেন হাজার হাজার বছরের পুরোনো চারটি বিশেষ ‘ইস্ট স্ট্রেন’ (Yeast Strain)। কয়েক হাজার বছর বরফের নিচে চাপা পড়ে থাকার পরও এই অণুজীবগুলো অলৌকিকভাবেই সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়নি।
ল্যাবরেটরিতে প্রাচীন ইস্টের পুনর্জন্ম:
বিজ্ঞানীরা মমি থেকে পাওয়া সেই প্রাচীন ইস্ট সংগ্রহ করে ল্যাবে সেটির বংশবৃদ্ধি ঘটান। দেখা যায়, উপযুক্ত পরিবেশ পেয়ে ৫৩০০ বছরের পুরোনো সেই অণুজীব আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে! এরপর সেই ইস্ট, ময়দা ও জল মিশিয়ে তৈরি করা হয় রুটির খামির। মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আধুনিক ইস্টের মতোই সেই খামির ফুলে-ফেঁপে রুটি তৈরির উপযোগী হয়ে ওঠে। গবেষকরা জানিয়েছেন, এই প্রাচীন ইস্ট দিয়ে তৈরি সাউয়ারডো রুটির স্বাদ এবং সুগন্ধ— দুটোই ছিল চমৎকার!
তাহলে কি ৫৩০০ বছর আগেই রুটি বানাতে জানত মানুষ?
ওটজ়ি নিজে রুটি বানাতে জানতেন কি না, তা নিয়ে বিজ্ঞানীরা এখনও ১০০% নিশ্চিত নন। তবে তাঁর পাকস্থলীতে আগেই গম ও শস্যদানা খাওয়ার প্রমাণ মিলেছিল, আর এবার মিলল ইস্ট। এর থেকে বিজ্ঞানীদের ধারণা, তাম্রযুগের মানুষ হয়তো আধুনিক সাউয়ারডো রুটি না বানালেও, ফারমেন্টেশন বা গাঁজন প্রক্রিয়ার কৌশল ভালোভাবেই জানত। খাবারকে কীভাবে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায় বা নরম করে খাওয়া যায়, সেই বুদ্ধি তাদের ছিল।
রুটির পর এবার টার্গেট বিয়ার!
বিজ্ঞানীদের চমক এখানেই শেষ হচ্ছে না। রুটি তৈরিতে সফল হওয়ার পর গবেষকরা এবার এই ৫৩০০ বছরের পুরোনো ইস্ট দিয়ে প্রাচীন আমলের বিয়ার বা পানীয় তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কারণ রুটি এবং বিয়ার— দুটোরই মূল ভিত্তি হলো এই ফারমেন্টেশন প্রক্রিয়া। এই পরীক্ষা সফল হলে কয়েক হাজার বছর আগের মানুষ ঠিক কেমন স্বাদের পানীয় খেত, তা পরখ করার এক ঐতিহাসিক সুযোগ আসবে আধুনিক সভ্যতার সামনে।
