৫৮ বিধায়কের বিদ্রোহ ও কল্যাণের আল্টিমেটাম! দল ভাঙা নিয়ে নীরবতা ভেঙে চরম বার্তা অভিষেকের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতা: নির্বাচনে দলের বড় বিপর্যয়ের পর চারিদিক থেকে ধেয়ে আসছিল একের পর এক তির। ৫৮ জন বিধায়ককে সঙ্গে নিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদ্রোহ থেকে শুরু করে প্রবীণ সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের তীব্র আক্রমণ— কার্যত কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অবশেষে দলের এই নজিরবিহীন ভাঙন এবং নেতাদের ‘বেসুরো’ মন্তব্য নিয়ে প্রথমবার মুখ খুললেন তিনি।
সিআইডি দপ্তরে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের সামনে এসে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন তৃণমূলের ‘যুবরাজ’। একইসঙ্গে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মানভঞ্জনেরও ইঙ্গিত দিলেন তিনি।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে নরম সুর অভিষেকের:
গত বৃহস্পতিবার অভিষেককে তীব্র নিশানা করে শ্রীরামপুরের বর্ষীয়ান সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় মমতাকে চরম আল্টিমেটাম দিয়ে বলেছিলেন, “অত্যন্ত ঔদ্ধত্য ওঁর। দিদিকে বলব, দলে হয় আপনি অভিষেককে রাখুন, না হলে আমাকে। আমি মমতা দিদির সঙ্গে আছি।” কল্যাণের এই বিস্ফোরক মন্তব্যের জবাবে এদিন অত্যন্ত সংযত দেখাল অভিষেককে। তিনি বলেন, “কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমাকে নিয়ে চারটে কটূ কথা বলার অধিকার রয়েছে। ছোট থেকে উনি আমাকে বড় হতে দেখেছেন। ওঁর বিরুদ্ধে আমার কোনও ব্যক্তিগত ক্ষোভ নেই। তাঁকে আগেও সম্মান করতাম, আগামী দিনেও করব।”
দল ভাঙানো এবং ইডি-সিবিআই তত্ত্ব:
৫৮ জন বিধায়ককে নিয়ে দল ছেড়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এখন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। অন্যদিকে লোকসভাতেও সায়নী ঘোষের মতো অভিষেক-ঘনিষ্ঠরা এখন বিক্ষুব্ধ শিবিরে। দলের এই ভাঙন প্রসঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “দল ভাঙানো অনেক দিন থেকে দেখছি। যদি কেউ ভাবে ধমকে-চমকে, সিআইডি-সিবিআই দিয়ে কুৎসা করে তৃণমূলকে দমানো যাবে, তবে ভুল ভাবছেন। ৩৪ বছরের সিপিএমের জগদ্দল পাথরকে সরিয়ে ক্ষমতায় এসেছে তৃণমূল। যাঁরা বড় বড় ভাষণ দিচ্ছেন, তাঁরা রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করুন।”
বিপর্যয়ের মধ্যেও দলের শক্তি মনে করিয়ে দিয়ে অভিষেক বলেন, “৩০ লক্ষ মানুষকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিয়েও তৃণমূল এবার ৪১ শতাংশ ভোট পেয়েছে। ২ কোটি ৬০ লক্ষ মানুষ ভোট দিয়েছেন। তৃণমূল মানুষের এই রায়ের প্রতিনিধিত্ব করবে এবং এক চুল জায়গাও ছাড়বে না।” একদিকে প্রতিমা মণ্ডলের মতো সাংসদদের ক্ষোভ, অন্যদিকে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আল্টিমেটাম— এই চরম সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে অভিষেকের এই সংযত অথচ হুঁশিয়ারি মনোভাব রাজনৈতিক মহলে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
