তৃণমূলে বড়সড় ভাঙনের ইঙ্গিত, তীব্র আইনি ও রাজনৈতিক সংকটে মমতা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বড়সড় রদবদল ও তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে তীব্র সংকটের আভাস মিলছে। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে থাকা দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সাংসদদের দল ছাড়ার জল্পনা যেমন তুঙ্গে, তেমনই আইনি বিপাকে পড়েছেন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। বিশেষ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ওঠা একের পর এক অভিযোগ এবং তাঁর বাড়িতে পুলিশি তল্লাশিকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই বহুমুখী চাপ তৃণমূলের সাংগঠনিক ভিতকে বড়সড় ধাক্কা দিতে পারে।
অভিষেকের বাড়িতে পুলিশি হানা ও দুর্নীতির পাহাড়
শনিবার সকালে কালীঘাটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে শালবনী থানার পুলিশের আকস্মিক প্রবেশকে কেন্দ্র করে এলাকা জুড়ে টানটান উত্তেজনা তৈরি হয়। তৃণমূল শিবিরের দাবি, পুলিশ বাড়ির তালা ভেঙে তল্লাশি চালায়। জানা গেছে, মূলত অভিষেকের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের খোঁজে এই তল্লাশি চালানো হয়েছিল, যাঁর বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে দলের টিকিট দেওয়া এবং জমি কেলেঙ্কারির মতো গুরুতর আর্থিক তছরুপের অভিযোগ রয়েছে। এর পাশাপাশি, আমফানের ত্রাণ তহবিল বণ্টনে প্রায় আড়াইশো কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগে অভিষেকের বিরুদ্ধে বিষ্ণুপুর থানায় নতুন করে লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। এই জোড়া আইনি চাপ তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বকে একপ্রকার কোণঠাসা করে ফেলেছে।
দলছাড়ার হিড়িক ও রাজ্য রাজনীতির নতুন সমীকরণ
আইনি সংকটের সমান্তরালে দলে তৈরি হয়েছে গভীর নেতৃত্ব সংকট। প্রবীণ নেতা ও সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল ছাড়ার জোরালো গুঞ্জন শুরু হয়েছে, যা দলের অন্দরে বড়সড় ফাটলের ইঙ্গিত দিচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, দলের শীর্ষ স্তরে একের পর এক কেলেঙ্কারি ও আইনি তদন্তের জেরে অনেক হেভিওয়েট নেতাই এখন নিজেদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ রক্ষার্থে দূরত্ব বজায় রাখতে চাইছেন। অন্যদিকে, রাজ্যে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সল্টলেক কার্যালয়ে আয়োজিত ‘জনতার দরবার’-এ সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভিড় তৃণমূলের জন্য জনসমর্থন হ্রাসের স্পষ্ট সংকেত। এই পরিস্থিতিতে শাসক শিবিরের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক প্রভাব ক্রমশ ম্রিয়মাণ হচ্ছে, যার জেরে আগামী দিনে তৃণমূলের আরও বহু সাংসদ বা বিধায়ক দল ছাড়তে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।
