বিদ্রোহী শিবিরে সুদীপের এন্ট্রি! কাকলিকে হঠিয়ে দলনেতার পদে বসতে বিজেপির সাথে রফা? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতা: তৃণমূলের অন্দরে বিদ্রোহী সাংসদদের কোন্দল এবার এক চরম নাটকীয় মোড় নিল। এতদিন ধরে যে বিদ্রোহী মঞ্চের রাশ নিজের হাতে রেখেছিলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সেখানে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক এন্ট্রিতে কার্যত কপাল পুড়তে চলেছে তাঁর। বিদ্রোহী শিবিরের নেতা কে হবেন, তা নিয়ে এখন সুদীপ বনাম কাকলির দ্বৈরথ একেবারে প্রকাশ্য রাজপথে চলে এসেছে।
রাজনৈতিক মহলের খবর, বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবার শিবির পরিবর্তনের উপঢৌকন হিসেবে বিজেপির হেভিওয়েট নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের কাছে বিদ্রোহী সাংসদদের দলনেতা হওয়ার দাবি জানিয়েছেন। বিজেপি শিবিরের সূত্রও এই খবরের সত্যতা উড়িয়ে দিচ্ছে না।
কাকলিকে হঠিয়ে কি রাশ নেবেন সুদীপ?
তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ সাংসদদের এককাট্টা করার পেছনে মূল ভূমিকা ছিল কাকলি ঘোষ দস্তিদারের। তবে স্বভাব ও ব্যবহারের কারণে সাংসদদের মধ্যে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন ছিল। এই পরিস্থিতিতে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় স্ত্রী নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দেওয়ায় বাকি সাংসদদের নেতা পাওয়ার সমস্যা অনেকটাই মিটেছে বলে মনে করা হচ্ছে। আর এতেই নিজের কুর্সি হারানোর ভয়ে কোমর বেঁধে ময়দানে নেমে পড়েছে কাকলি লবি।
‘অসুস্থ সুদীপকে নেতা করা মানে ভস্মে ঘি ঢালা!’
পদ খোয়ানোর আশঙ্কায় সুর চড়িয়েছে কাকলি শিবির। তাঁদের স্পষ্ট দাবি, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত অসুস্থ। তৃণমূলের লোকসভার দলনেতা থাকাকালীনই তিনি অর্ধেক দিন সংসদে আসতে পারতেন না, দলের বৈঠকেও তাঁকে দেখা যেত না। এতদিন ধরে পরিশ্রম করে কাকলি যে জমি তৈরি করলেন, সেখানে এসে সুদীপ বিনা পরিশ্রমে ‘ক্ষীর’ খাবেন কেন?
অন্যদিকে, এক বিদ্রোহী সাংসদ নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, “সুদীপদার এই শিবিরে আসা ছাড়া উপায় নেই, কারণ যেভাবে উনি ফেঁসে রয়েছেন!” ফলে বাধ্য হয়েই সুদীপকে এই লড়াইয়ে নামতে হয়েছে।
সুদীপকে দলনেতা না করলে তিনি কতটা সহযোগিতা করবেন তা নিয়ে যেমন ধোঁয়াশা রয়েছে, ঠিক তেমনই সুদীপ আসার পর থেকে নিজের ক্ষমতার রাশ ধরে রাখতে সব অস্ত্রে শান দিচ্ছেন কাকলি। দুই হেভিওয়েটের এই নজিরবিহীন লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কে শেষ হাসি হাসেন, এখন সেটাই দেখার।
